শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর গ্যারি কার্স্টেন তার কোচিং ক্যারিয়ারের একটি সংক্ষিপ্ত ও জটিল অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন। সেটি হলো পাকিস্তানের সঙ্গে কাটানো তার সেই অল্প সময়ের অভিজ্ঞতা।
পাকিস্তানে তার মেয়াদ ছিল মাত্র পাঁচ মাস, যেখানে কোচ হিসেবে ছিলেন মাত্র ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। অল্প সময়ের অভিজ্ঞতা নানা কারণে তার মনে দাগ কেটে গেছে।
২০১১ সালে ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো এই কোচ ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
গত বছরের অক্টোবরে দল নির্বাচন, অধিনায়কত্ব এবং বাইরের হস্তক্ষেপ নিয়ে পিসিবি-র সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তিনি পদত্যাগ করেন। বড় একটি ঝামেলা তৈরি হয়েছিল যখন পিসিবি মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সাদা বলের অধিনায়ক ঘোষণা করে। উইকেটকিপার-ব্যাটারকে অধিনায়ক করার এই সিদ্ধান্তে কার্স্টেন মোটেও খুশি ছিলেন না।
বিবিসি-র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কার্স্টেন জানান, সেই সময়টি কেন তার জন্য এত কঠিন ছিল। তিনি সরাসরি কোনো নাম না নিলেও বারবার একটি সমস্যার কথা বলেছেন—আর সেটি হলো ‘হস্তক্ষেপ’। তার মতে, এই হস্তক্ষেপের কারণেই তিনি নিজের মতো করে কাজ করতে পারছিলেন না, ‘আমি সারা বিশ্বে কাজ করেছি, এটি আমার চতুর্থ আন্তর্জাতিক চাকরি। একেক দেশে হস্তক্ষেপের মাত্রা একেক রকম হয়। তবে পাকিস্তানে এই হস্তক্ষেপের বিষয়টি বেশ ভীতিপ্রদ এবং জটিল ছিল। কোচ হিসেবে যখন আপনার কোনো প্রভাবই থাকবে না, তখন সেই কাজ করার মানে কী? আমি ২০ বছর বয়স থেকে ক্রিকেটে আছি, এখন আমার বয়স ৫৮। দীর্ঘ ৩৮ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি কোথাও গিয়ে যদি কিছু যোগ করতে না পারি, তবে সেখানে থাকার কোনো সার্থকতা দেখি না।’
মাঠের বাইরের পরিস্থিতি যেমনই হোক, খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বেশ চমৎকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে না পারায় পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের জরিমানা করার খবর শুনে কার্স্টেন রাগ নয়, বরং দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ‘খবরটি শুনে আমি অবাক হইনি, বরং খারাপ লেগেছে। এই ছেলেরা তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের সঙ্গে আমার একটি আত্মিক টান তৈরি হয়েছে। কলম্বোতে তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় খুব ভালো লেগেছিল। তারা সবাই ভালো মানুষ এবং দেশের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে খেলতে চায়।’
কার্স্টেনের কথায় স্পষ্ট যে, তিনি কেবল কোচ হিসেবে নন, মানুষ হিসেবেও খেলোয়াড়দের অনেক পছন্দ করতেন। তার মতে, খেলোয়াড়রা যে দেশেরই হোক—ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা পাকিস্তান—তারা সবাই পেশাদার এবং একই ভাষায় কথা বলে।
পিছনের দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে কার্স্টেন বলেন, ‘সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ মাস আর ছয়টি ম্যাচ। অভিজ্ঞতার হিসেবে এটি ছিল খুবই সামান্য এক ঘটনা।’
বর্তমানে শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে তিনি তার পুরনো দর্শন নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন—যেখানে মূল লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা এবং দলের উন্নতিতে ভূমিকা রাখা।