যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের তৃতীয় সপ্তাহে এসে ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে এ হামলা কীভাবে হয়েছে বা হামলায় কী ধরনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি ইরান।
ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত নাতাঞ্জ ও ইসফাহান দেশটির অন্যতম প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটিকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখা।
প্রায় প্রতিদিনই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি, বিশেষ করে ইসফাহানে হামলার খবর পাওয়া গেলেও, নাতাঞ্জে বড় ধরনের হামলার খবর এই প্রথম।
মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, এ হামলা যুক্তরাষ্ট্র করতে পারে এবং যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বা মাটির নিচের স্থাপনা ধ্বংসকারী বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক সংস্থা জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ধারাবাহিকতায় আজ সকালে নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম কমপ্লেক্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’
তবে কোনো পারমাণবিক উপাদান নিঃসরণ বা বিকিরণের খবর পাওয়া যায়নি বলে তারা জানিয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই দায়িত্বজ্ঞানহীন হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত অবিলম্বে এর কঠোর মূল্যায়ন করা।’
এর আগে, গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে হামলা করে ইসরায়েল।
ওই হামলার পর আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা আইএইএ বলেছিল, হামলার পর পারমাণবিক স্থাপনার বাইরের তেজস্ক্রিয়তার স্তর তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক দেখালেও, তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।
ইরানের পরমাণু সংস্থা আশ্বস্ত করেছে, এবারের হামলায় কোনো পারমাণবিক বিকিরণ ঘটেনি। তাই আশপাশের এলাকার জনগণের বিপদ নেই।
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পারমাণবিক বিপর্যয় এড়াতে সব পক্ষকে ‘সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আইএইএ জানিয়েছে, নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনার বাইরে বিকিরণের মাত্রা বাড়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানায়, গত বছরের হামলার পর ইরান দ্রুতগতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ করেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আইএইএ বলছে, গত বছর তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলেও নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের কিছু অবকাঠামো সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে।