দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও প্রাণ ফিরছে রাজধানীর মিন্টো রোডের ঐতিহ্যবাহী ২৯ নম্বর সরকারি বাসভবনে। আগামীকাল শনিবার ঈদের দিন সেখানে পা রাখবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
দিনটিতে এই ঐতিহাসিক বাসভবন থেকেই তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে। ঢাকা-১৫ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তার ঈদের সকাল শুরু হবে। সকাল ৮টায় ৬০ ফিট সড়ক সংলগ্ন মনিপুর গার্লস হাইস্কুল মাঠে ঈদের জামাতে তিনি অংশ নেবেন। নামাজ শেষে এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে জানিয়েছে দলটি।
এরপর দিনটির মূল আয়োজন হবে মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর বাসভবনে। ইতোমধ্যে বাড়িটির সামনে টানানো হয়েছে শফিকুর রহমানের ছবিসংবলিত ব্যানার। ভেতরে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী প্যান্ডেল, যেখানে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকালে ঝড়ে প্যান্ডেলের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। প্যান্ডেলের এক পাশে নির্মাণ করা হয়েছে একটি মঞ্চ। সেখান থেকেই বিরোধীদলীয় নেতা অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পাশাপাশি ভবনের ভেতরেও কিছু অতিথির জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম জানান, সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে এবং বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বিরোধীদলীয় নেতা।
ঐতিহাসিক এই বাসভবনটি বর্তমানে সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কাজ শেষ হলে এখানে স্থায়ীভাবে উঠবেন শফিকুর রহমান। এখন তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় থাকেন।
মিন্টো রোডের এই শতবর্ষী দোতলা ভবনটি কেবল একটি সরকারি বাসভবন নয়—বাংলাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবাহী একটি স্থানও বটে। এক সময় লাল রঙের এই ভবনে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে উঠেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এখানে নিয়মিত অফিস করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
সেই সময় বাসভবনটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছিল সরগরম। নেতাকর্মীদের আনাগোনায় মুখর থাকত পুরো এলাকা। তবে ২০০১ সালে খালেদা জিয়া বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার পর গত আড়াই দশকে আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা সেখানে ওঠেননি।
ঐতিহ্যবিষয়ক সংগঠন আরবান স্টাডি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০৬ সালে বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় নতুন প্রশাসনিক এলাকার বিকাশ ঘটে, যা ‘সিভিল স্টেশন’ নামে পরিচিতি পায়। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের আবাসন হিসেবে মিন্টো রোড ও আশপাশে নির্মিত হয় লাল ইটের বাংলো ধাঁচের বেশ কিছু ভবন। ২৯ নম্বর বাড়িটি সেই ধারারই একটি নিদর্শন।
প্রাচীন এই দোতলা ভবনটির সামনে রয়েছে বৃত্তাকারে সাজানো পাইন গাছের সারি। চারপাশজুড়ে দেবদারু, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নিম ও আমগাছসহ নানা বৃক্ষের সবুজ সমারোহ। বিস্তীর্ণ লনজুড়ে ছড়িয়ে আছে এক অন্য রকম নান্দনিকতা।
দীর্ঘ বিরতির পর ঈদের দিন এই ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণে আবারও জমবে রাজনৈতিক ও সামাজিক মেলবন্ধন—যা নতুন করে স্মরণ করাবে ভবনটির অতীতের প্রাণচাঞ্চল্য।