স্কোয়াডে সুযোগ পেলে ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ—আরও একবার নিজের মনের সুপ্ত বাসনার কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিলেন নেইমার। আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য ঘোষিত ব্রাজিল দলে জায়গা পাননি তিনি। ফলে আগামী বিশ্বকাপে এই তারকা ফরোয়ার্ডকে হলুদ জার্সিতে দেখার সম্ভাবনা হয়ে গেছে ক্ষীণ।
ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দল ঘোষণ শরীরে ম্যাজাস নিতে নিতে দেখছিলেন নেইমার। এক ভিডিওতে দেখা যায় কোচ কার্লো আনচেলত্তি দল ঘোষণা শেষ করে ফেললে তিনি বলছেন, ‘আনচেলত্তি, আমার খবর কি?’ দলে জায়গা না পাওয়া যে চরম হতাশার সেটাও বলেন তিনি।
সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি তারকা নেইমার এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে তার গোল ৮টি। বিশেষ করে ২০১৪ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। সেবার ৫ ম্যাচে ৪টি গোল করে ব্রাজিলকে সেমিফাইনালের পথে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে পিঠের ইনজুরিতে পড়ে তার সেই স্বপ্ন মাঝপথেই থমকে যায়।
আগামী মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। কিন্তু কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্কোয়াডে নেইমারের নাম না থাকায় ভক্তদের মনে দুশ্চিন্তা দানা বেঁধেছে। ক্যারিয়ারের একদম শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে সান্তোসের এই তারকা দেশের হয়ে শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নামতে মরিয়া।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে নেইমার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘হ্যাঁ, (সুযোগ পেলে) এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের হয়ে এটাই শেষ বছর কি না জানি না, তবে সবকিছু শেষের দিকে চলে আসছে—এটা আমাদের বুঝতে হবে। আমি সব সময় আমার বন্ধু আর পরিবারকে বলি, সময়টা যতটা পারো উপভোগ করো। খেলাগুলো মন দিয়ে দেখো, কারণ এই দিনগুলো ফুরিয়ে আসবে।’
জাতীয় দলকে এখনো অনেক কিছু দেওয়ার আছে বলে মনে করেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় দলকে যেকোনোভাবে সাহায্য করতে পারি। মাঠে আমার সক্ষমতা আর খেলার শক্তি নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। অবশ্যই আমি বিশ্বকাপে যেতে চাই এবং এই জেদটাই আমাকে তাতিয়ে রাখে। গত এক সপ্তাহে সব জায়গায় কোটিবার আমার নাম আলোচিত হয়েছে। আমি স্রেফ ফুটবল খেলে যেতে চাই, সেটা সান্তোসের হয়ে হোক বা ব্রাজিলের হয়ে। আমি প্রতিটি ম্যাচে নিজের সেরাটা দিতে চাই।’