শহীদ মিনারে রাকিবুল হত্যার রহস্য উদঘাটন, খুলনা থেকা আনা হয় কিলার

Date:

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টিকটকের কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামের হত্যারহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, সম্পর্ক-কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে খুলনা থেকে ভাড়ায় খুনি এনে তাকে হত্যা করা হয়।

আজ সোমবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন আল আমিন এখনো পলাতক। তিনিই রাকিবুলের ওপর গুলি ছুড়েছিলেন।

গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ মিনারে পৌঁছান শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিবুল। মোটরসাইকেল পার্ক করার পরপরই পাঁচ-ছয়জনের একটি দল আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ডিসি মাসুদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—শিহাব, রাফিন, জয়, সাগর ও সালাউদ্দিন ওরফে সাকা। খুলনা, পটুয়াখালী ও গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্তত সাতজন এখনো পলাতক।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং দুজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সালাউদ্দিনকে গত রাতে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে ডিসি মাসুদ আলম বলেন, টিকটকার রাকিব বিবাহিত ছিলেন। তবে একাধিক নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল তার। তাদেরই একজন জান্নাত ওরফে মুন, যার সঙ্গে রাকিব টিকটক ভিডিও বানাতেন।

পুলিশ জানায়, জান্নাতের স্বামী সাজিদ খুলনার একজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারি। রাকিবের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলছিল এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি রাকিবকে হুমকি দিচ্ছিলেন।

ডিসি মাসুদ বলেন, ‘আমরা যা জানতে পেরেছি, সাজিদের মনে তীব্র ক্ষোভ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, খুলনার একটি গ্রুপ এই হামলার পরিকল্পনা করে। তারা ভাড়াটে খুনিদের এনে রাকিবকে হত্যা করান।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সরাসরি হত্যা মিশনে অংশ নেন। শিহাব, জয় ও রাফিন রামদা ও ছুরি দিয়ে রাকিবকে কুপিয়েছেন। সাগর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও এতে অংশ নেননি। পুরো ঘটনার সমন্বয়, অস্ত্র সরবরাহ ও সার্বিক পরিকল্পনা করেছিলেন সালাউদ্দিন ওরফে সাকা।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও তিনটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। আগ্নেয়াস্ত্রটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

তদন্তকারীরা জানান, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের খুলনার বিভিন্ন অংশ থেকে ভাড়া করা হয়েছিল। অপর এক সন্দেহভাজন ঢাকায় তাদের হোটেলের ব্যবস্থা ও অন্যান্য ব্যাকআপের দায়িত্ব পালন করেন।

ডিসি মাসুদ আলম বলেন, ‘এই চক্রটি অত্যন্ত ভয়ংকর। তারা ভাড়ায় খুনের কাজ করে এবং বিভিন্ন জেলায় তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে। মাত্র ১০ হাজার টাকার চুক্তিতেও তারা যেকোনো মানুষকে টার্গেট করতে পারে। তবে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে।’

Popular

More like this
Related

ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা...

চাঁদ দেখা যায়নি, দেশে ঈদুল ফিতর শনিবার

দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। আগামী...

পিএসএলকে ‘অবসরপ্রাপ্তদের লিগ’ বললেন শেহজাদ

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের টানা ব্যর্থতা নিয়ে নিয়মিত সমালোচনার পাশাপাশি...

বান্দরবানে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

বান্দরবানে মেঘলা পর্যটন এলাকায় পাহাড়ের নিচ থেকে মা ও...