দেশের চার জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। এসব ঘটনায় আহত হন ১১ জন।
আজ বুধবার এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বাণেশ্বর কোলাহাটা এলাকার রাজশাহী–ঢাকা মহাসড়কে আজ দুপুরের দিকে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন—চারঘাট উপজেলার মৌগাছি গ্রামের কাউসার ইমাম (২৬) এবং তার ছয় বছর বয়সী ছেলে মো. রেদোয়ান।
হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সংঘর্ষের পর ট্রাকটি তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়, এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।’
আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে হবে বলে জানান ওসি মোজাম্মেল।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় উপজেলার বারইগ্রাম এলাকায় বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত আজিজুন নেছা (৫০) উপজেলার সুড়িকান্দি গ্রামের জমির উদ্দিনের স্ত্রী। এ ঘটনায় জমির উদ্দিন ও অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিলাদ আহমদ বিকেলে বলেন, অটোরিকশায় গাছ পড়ে ওই নারী ঘটনাস্থলে মারা যান। তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ওই নারীর স্বামী ও চালককে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কমল মুন্সির হাটের কাছে জুলুর দীঘি এলাকায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
নিহত মোহন দাস (৫০) লোহাগাড়া উপজেলার পান-সুপারি বিক্রেতা।
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, চট্টগ্রামগামী একটি মারসা বাসের সঙ্গে কক্সবাজারগামী একটি ঈগল পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, এতে অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। একই সময় দ্রুতগতিতে চলা ঈগল পরিবহনের আরেকটি বাস পেছন থেকে প্রথম বাসটিকে ধাক্কা দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সামাইয়া রওশন জানান, এখানে আনার পর মোহনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। গুরুতর আহত কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে কালীগঞ্জ–জীবননগর মহাসড়কের খালিশপুর কোল্ড স্টোরেজের সামনে আজ সকালে তেলবাহী ট্যাংকারের চাপায় এক নারী নিহত হয়েছেন।
নিহত ফুলঝুরি বেগম (৪৫) উপজেলার নিমতলা গ্রামের ফকির আহমেদের স্ত্রী। এ ঘটনায় তার ছেলে লাভলু আহত হয়েছেন।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় লাভলুকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোরে পাঠানো হয়।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকার ও আহতের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।