ইরান যুদ্ধ চলাকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর পড়েছে কিউবার ওপর। কোনো রাখটাক না রেখেই দেশটিকে দখলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বলেছেন, কিউবাকে ‘দখলে নেওয়ার’ সম্মান পাওয়ার আশা করছেন এবং কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে তিনি ‘যা খুশি করতে পারেন’।
তবে বিষয়টি সম্ভবত ততটা সহজ নয়। ট্রাম্পের হুমকির পরপরই রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কিউবার প্রতি অটল সমর্থন বজায় রাখবে।
রয়টার্স বলছে, ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিউবাকে ‘স্বাধীনতার দ্বীপ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়া কিউবার সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি অটল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, আমরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে গুরুতর হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা করছি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছেন, বিশেষ করে তেল অবরোধ আরোপ করেছেন, যা ইতোমধ্যেই দেশটির পুরোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেলকে ক্ষমতা থেকে সরানো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এই আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার আলোচকদের জানিয়েছে যে দিয়াজ ক্যানেলকে সরে যেতে হবে, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ কিউবার ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে ক্রেমলিন বলছে, তারা কিউবার নেতৃত্বের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং মস্কো সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, স্বাধীনতার দ্বীপ আজ নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক, আর্থিক এবং সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের ফল।
রাশিয়া জানিয়েছে, তারা কিউবাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা—বিশেষ করে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে।
রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পর রাশিয়া একটি মিত্র হারিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার ফলে তেলের দাম বাড়ায় রাশিয়া কিছুটা লাভবান হয়েছে। কেননা ইরান মস্কোর একটি কৌশলগত অংশীদার।
১৯৫৯ সালের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর ফিদেল কাস্ত্রোর ক্ষমতায় আসার সময় থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়া পর্যন্ত কিউবা দীর্ঘদিন মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। সাম্প্রতিককালেও রাশিয়া অর্থ ও পণ্য সহায়তার মাধ্যমে কিউবাকে সমর্থন দিয়ে আসছে।