সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভিসি) পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এই প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে জামায়াতে ইসলামী।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য আবদুল হালিম।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিবর্তে সরকার দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এর ভেতর দিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এমন অবস্থায় দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আবদুল হালিম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হবে। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার মাঠের পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন, যারা সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনের পর এখন দলীয়করণমূলক সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশাকে আঘাত করছে।
জেলা পরিষদ নিয়োগ নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জামায়াতের এই নেতা। বলেন, ১৫ মার্চ ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগেও দলীয় বিবেচনাই প্রাধান্য পেয়েছে। কিছু জেলায় তাদের দলের বা জোটের প্রার্থীরা নির্বাচনে ভালো ফল করলেও সেখানে পরাজিত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে। এতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আবদুল হালিম আরও বলেন, সম্প্রতি ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পরিবর্তন করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। যদি নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হতো, তাহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা যেত। তবে দলীয় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে—এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক পদে বসানো হলে তা ‘মেধাভিত্তিক নিয়োগের চেতনার’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন আবদুল হালিম। তার অভিযোগ, আকস্মিকভাবে গভর্নর পরিবর্তন করে একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত আর্থিক খাতে পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী প্রবণতা’ হিসেবে দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল হালিম বলেন, এখনই আমরা এ ধরনের কঠোর মন্তব্য করতে চাই না। দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে আপাতত প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে দাবি না মানা হলে ধাপে ধাপে কর্মসূচি দেওয়া হবে।