এএফসি এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর বাছাইপর্বে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়ে কার্যত বিদায় নিয়েছে মালয়েশিয়া। অযোগ্য খেলোয়াড় খেলানোর দায়ে দুই ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে হার গণ্য করা হয়েছে তাদের, ফলে সরাসরি মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ভিয়েতনাম।
মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত জানায় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। সংস্থাটি জানায়, বাছাইপর্বের ফাইনাল রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে মালয়েশিয়া অযোগ্য খেলোয়াড় নামিয়েছিল, যা নিয়মবহির্ভূত।
এই রায়ের ফলে গ্রুপে ভিয়েতনাম এখন ছয় পয়েন্টের অপ্রতিরোধ্য ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। আর একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও, ৩১ মার্চ ভিয়েতনাম-মালয়েশিয়া লড়াইটি এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।
ঘটনার সূত্রপাত আরও আগে। ২০২৫ সালের জুনে ভিয়েতনামের বিপক্ষে মালয়েশিয়ার ৪-০ গোলের জয় এবং একই বছরের মার্চে নেপালের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে তদন্তে নামে ফিফা।
ফিফার তদন্তে উঠে আসে, সাতজন বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় জাল নথি ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন। তাদের কারোরই মালয়েশিয়ান বংশসূত্র বা পারিবারিক যোগসূত্র ছিল না।
ফলে ওই দুই ম্যাচের ফল বাতিল করে ৩-০ ব্যবধানে প্রতিপক্ষের জয় ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করা হয় এবং মালয়েশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা করা হয়।
পরবর্তীতে খেলোয়াড় ও ফেডারেশন আপিল করে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোর্ট অব আরবিট্র্যাশন ফর স্পোর্টে (সিএএস)। চলতি মাসের শুরুতে সিএএস কিছুটা শাস্তি কমালেও, এক বছরের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে, যা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তবে তারা ক্লাবের হয়ে অনুশীলন ও অন্যান্য ফুটবল কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।
এই বিতর্কিত সাত খেলোয়াড়ের মধ্যে তিনজন আর্জেন্টাইন, দুইজন স্প্যানিশ, একজন ডাচ এবং একজন ব্রাজিলিয়ান। তারা হলেন হেক্টর হেভেল, জন ইরাজাবাল, গ্যাব্রিয়েল পালের্মো, ফাকুন্দো গার্সেস, রদ্রিগো হলগাদো, ইমানোল মাচুকা ও জোয়াও ব্রান্দাও ফিগেইরেদো।