সংবিধানে কোনো অস্তিত্ব না থাকায় রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব সংবিধানে নেই, তাই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতিকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন না। আর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতিও ওই অধিবেশন ডাকতে পারেন না। মূলত এ কারণেই রাষ্ট্রপতি কোনো অধিবেশন ডাকেননি।
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, মুলতবি বা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল এবং তিনি তা দিয়েছেনও।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিরোধীদলীয় বন্ধুরা সেই (রাষ্ট্রপতির) ভাষণ না শুনেই কক্ষ ত্যাগ করেছেন—সেটি তাদের ব্যাপার। কিন্তু সেই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য তারা ৫০ ঘণ্টা বরাদ্দ করা হোক চেয়েছে। আনুপাতিক হারে সেই সময় বরাদ্দ করা হবে, যা ইতিবাচক।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টিকে ‘অসংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা (বিরোধীদল) এমন একটি পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানাচ্ছেন যার কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশকে একটি ‘আরোপিত আদেশ’ হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ইমোশন (আবেগ) দিয়ে চলে না; রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে, আইন দিয়ে, কানুন দিয়ে। জনরায়কে সম্মান দিতে হবে, কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে দিতে হবে, আইনগতভাবে দিতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানের যেকোনো পরিবর্তন বা সংশোধন অবশ্যই সঠিক আইনপ্রনয়ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন ও পাস হতে হবে। কোনো বেআইনি বা আরোপিত আদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন সম্ভব কি না—তা একটি বড় সাংবিধানিক প্রশ্ন।
চলমান অধিবেশনে ১৩৩টি ঝুলে থাকা অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকায় এখনই সংবিধান সংশোধনী বিল আনা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে আগামী বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটি চাইলে একটি কমিটি গঠন এবং সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই মহান সংসদে সেই বিল গ্রহণ করব। এ পর্যন্ত আমরা সংবিধান মেনে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছি এবং ভবিষ্যতেও সাংবিধানিক পথেই এগোব।