২০২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
পরোয়ানাভুক্ত ২২ শিক্ষার্থী হলেন— ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী গাইন, ইয়ামুজ্জামান ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন শাফি, আবদুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদওয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. হান্নানুল ইসলাম ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৮ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে একটি সম্পূরক চার্জশিট জমা দেন।
অভিযুক্ত ২৮ জনের মধ্যে জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, মো. সুমন মিয়া ও ওয়াজিবুল আলম গ্রেপ্তারের পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আহসান ও ওয়াজিবুল বর্তমানে জামিনে আছেন।
গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশের পর পিবিআই এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
চার্জশিট অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে। হলের মাঠে ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে ছয়টি মোবাইল ফোন চুরি হয়। ওইদিন সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে তোফাজ্জল মাঠে একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালে সেখানে উপস্থিত হলে তাকে চোর সন্দেহে আটক করা হয়। শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করে হলের গেস্টরুমে নিয়ে যান। তারা তোফাজ্জলের পরিবারের কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন। তার চাচা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তোফাজ্জলকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটান, যার ফলে তার মৃত্যু হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর তোফাজ্জলের স্বজনরা গণমাধ্যমকে জানান, বাবা-মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর তোফাজ্জল মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ভবঘুরের মতো জীবনযাপন করতেন।
ঘটনার পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ শাহবাগ থানায় মামলাটি করেছিলেন।