পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার পাঁচজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে দেওয়া পৃথক পাঁচটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন—রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি কুসুম দেওয়ান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে থাকা পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মুহম্মদ তারিক, একই মন্ত্রণালয়ের ওএসডি থাকা মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ ও পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ট্রেনিং রিজার্ভ-টিআর পদে) মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো হলো। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এই ধারায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ করলে সরকার কারণ উল্লেখ না করেই তাকে অবসরে পাঠাতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ধারা ৪৫-এর আওতায় অন্তত ৪৯ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ২০ জন অতিরিক্ত আইজিপি ও ১১ জন ডিআইজি রয়েছেন।
এই কর্মকর্তাদের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো ছাত্র আন্দোলন দমনে তারা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছিলেন।
এর আগে অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম, সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া ও পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি কৃষ্ণ পদ রায়। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও রয়েছে।
পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ‘রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত’ হয়ে আসা বাহিনীকে পুনর্গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।