দীর্ঘ বিরতি ও টি-টোয়েন্টি কেন্দ্রিক সূচির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে পরিকল্পনা ঠিকভাবে করা যায়নি বলেই মনে করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের মতে, ম্যাচের ধারাবাহিকতা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফলও আসেনি।
বর্তমানে ওয়ানডে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একদিনের ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) খেলছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। মার্চে ঘরের মাঠে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু হবে টানা ওয়ানডে মিশন। অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মিরাজ।
রোববার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা এখনই শুরু করেছি, বিসিএল দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। সামনে যে সিরিজগুলো আছে, সেগুলো কীভাবে জিততে পারি, সেটা নিয়ে আমরা একসঙ্গে বসে পরিকল্পনা করব। সাম্প্রতিক ওয়ানডেগুলোতে আমরা ভালো করতে পারিনি, কারণ ম্যাচগুলো হয়েছে দীর্ঘ বিরতিতে, আর তখন আমাদের পুরো মনোযোগ ছিল টি-টোয়েন্টিতে। এত ব্যবধানে ওয়ানডে খেললে কার্যকর পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে যায়। তবে সামনে অনেক ম্যাচ আছে, তাই এবার ভালো পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।”
গত বছর মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ একের পর এক টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে মোট নয়টি। পাশাপাশি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিসহ পুরো বছরে ওয়ানডে সিরিজ ছিল মাত্র তিনটি। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
মিরাজ মনে করেন, বিসিএল পাকিস্তান সিরিজের জন্য দারুণ প্রস্তুতি এনে দিচ্ছে, বিশেষ করে বগুড়া ও রাজশাহীর উইকেটের মানের কারণে। “বিসিএলে ম্যাচ খেলতে পারায় আমরা ভালো প্রস্তুতি পেয়েছি। রাজশাহী ও বগুড়ার উইকেট খুব ভালো ছিল। গতকাল প্রায় ৩২২ রান তাড়া করে জেতা হয়েছে, যা ওয়ানডের জন্য খুব ইতিবাচক। বগুড়াতেও ৩০০ রানের মতো স্কোর হয়েছে। এত বড় স্কোর হওয়া মানে ব্যাটসম্যানরা রান পাচ্ছে এবং সবাই প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতায় আছে। এতে দেশের ক্রিকেট আরও এগোবে,” বলেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তান সিরিজে সাকিব আল হাসানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়েও চলছে আলোচনা। তবে বিষয়টি তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে বলে জানান মিরাজ, “সাকিব ভাইয়ের পরিস্থিতি আমরা সবাই জানি। তিনি দলে থাকলে অধিনায়ক হিসেবে দল গঠন অনেক সহজ হয়ে যায়। বোর্ড বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে এবং সবাই ইতিবাচক। যদি চলমান প্রক্রিয়াগুলো মিটে যায়, তাহলে সবকিছু সহজ হবে। আমি নিয়মিত তার সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলি, আমরা ভালো খেললে তিনি প্রশংসা করেন। তবে তার ফেরা পুরোপুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।”