অভিষেক আসরেই কঠিন বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিতব্য এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন। তবে শক্তির পার্থক্য সত্ত্বেও বাংলাদেশকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না চীনা শিবির।
চীনের অস্ট্রেলিয়ান কোচ আন্তে মিলিচিচ মনে করেন, গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারে উত্তর কোরিয়া, কিন্তু বাংলাদেশকেও যথেষ্ট সম্মান দিচ্ছেন তিনি। নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন, তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, উজবেকিস্তান এবং বাংলাদেশ এই চার দল নিয়ে গঠিত হয়েছে কঠিন একটি গ্রুপ।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে মিলিচিচ বলেন, “এখন প্রতিটি দলই আগের চেয়ে অনেক বেশি ফিট এবং সংগঠিত। প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রথম ম্যাচে আমাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ, তাদের অবশ্যই সম্মান করতে হবে। কারণ এটি তাদের প্রথম এশিয়ান কাপ।”
অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া এই কোচ ২০১৯ সালের নারী বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার নারী দল ‘ম্যাটিল্ডাস’-কে শেষ ষোলোতে তুলেছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি চীনের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। তার দৃষ্টিতে, উত্তর কোরিয়া নিঃসন্দেহে ভয়ংকর প্রতিদ্বন্দ্বী; তবে চীন এক ম্যাচ করে এগোতেই মনোযোগী।
বাংলাদেশের জন্য ৩ মার্চের ম্যাচটি শুধু একটি খেলা নয়, বরং ইতিহাসের সূচনা। চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই এশিয়ার সর্বোচ্চ নারী ফুটবল আসরে পথচলা শুরু হবে তাদের। কিন্তু প্রস্তুতি আদর্শ ছিল না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ না পেলেও সিডনিতে গিয়ে ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার দলের অনুশীলনে জোর দেন। সেখানে চারটি অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করে বুধবার স্থানীয় ক্লাব ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্স নারী দলর বিপক্ষে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ।
সে ম্যাচের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও জানা গেছে, ২৬ সদস্যের পুরো স্কোয়াডকে খেলানোর সুযোগ দিয়ে ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র হয়েছে। ফলের চেয়ে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস ও সমন্বয় বাড়ানোই ছিল কোচের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে চীনও সাম্প্রতিক সময়ে পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর দলটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবু ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও শক্তির বিচারে তারা এখনও অন্যতম ফেভারিট।