ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল ভারতও। দক্ষিণ আফ্রিকা জিতে যাওয়ায় ভারতের সমীকরণ এখন অনেক সহজ। হলোও তাই। ব্যাটিং ধসের পর জেসন হোল্ডার ও রোমারিও শেফার্ডের বিশ্ব রেকর্ড জুটিতে ক্যারিবিয়ানরা লড়াইয়ের পুঁজি পেলেও তা যথেষ্ট ছিল না। এইডেন মার্করাম, কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনদের ঝড়ে অনায়াসেই জিতল প্রোটিয়ারা।
আহমেদাবাদে বৃহস্পতিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে ৯ উইকেটে। এই বিশাল জয়ে তাদের সেমিফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেল। আগে ব্যাট করে হোল্ডার ও শেফার্ডের সৌজন্যে ১৭৬ রান সংগ্রহ করে দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
রান তাড়া করতে নেমে প্রোটিয়ারা বুঝিয়ে দেয় যে উইকেটটি ছিল অন্তত দুইশো রানের। হাতে বল রেখেই দাপটের সঙ্গে ম্যাচ শেষ করে তারা। দলকে জেতাতে ৪৬ বলে অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংস খেলেন মার্করাম। ডি কক ২৪ বলে ৪৭ রান করে ফিরে গেলেও রিকেলটন ২৮ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালের পথ এখন ভারতের নিজেদের হাতেই থাকছে। জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গী হবে সূর্যকুমার যাদবের দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে গেলে বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও রানরেটে পিছিয়ে থাকায় ঘরের মাঠে সেমিফাইনালের আগেই দর্শক হতে হতো স্বাগতিক ভারতকে।
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের উইকেট ছিল রানে ঠাসা। টস জিতে আগে ফিল্ডিং বেছে নেন মার্করাম। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ১৭ রান আনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ; ২ ওভার শেষে তাদের রান ছিল বিনা উইকেটে ২৯। উড়ন্ত সূচনাটি হুট করেই ধাক্কা খায় কাগিসো রাবাদার তোপে। এই ডানহাতি পেসার তৃতীয় ওভারে পরপর ফিরিয়ে দেন শেই হোপ ও শিমরন হেটমায়ারকে।
পাওয়ার প্লের মধ্যে ব্র্যান্ডন কিং ও রোস্টন চেজকে হারালে চরম বিপর্যস্ত দেখায় ক্যারিবিয়ানদের। লুঙ্গি এনগিদি ও করবিন বশদের তোপে তাদের সেই বিপর্যয় আরও বাড়তে থাকে। শেরফেন রাদারফোর্ড ও রভম্যান পাওয়েলদের বিদায়ে ৮৩ রানেই ৭ উইকেট খুইয়ে বসে তারা।
তবে লম্বা ব্যাটিং লাইনআপের সুবিধা পায় দল। অষ্টম উইকেটে ৫৯ বলে ৮৯ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন হোল্ডার ও শেফার্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অষ্টম উইকেট জুটির বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তারা। হোল্ডার ৩১ বলে ৪৯ এবং শেফার্ড ৩৭ বলে অপরাজিত ৫২ রান করেন। স্লোয়ারের পশরা সাজিয়ে ৩০ রানে ৩ উইকেট নেন এনগিদি।
রান তাড়ায় তেমন কোনো চ্যালেঞ্জেই পড়েনি গত আসরের রানার্সআপরা। ডি কক ও মার্করাম মিলে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। অষ্টম ওভারে তাদের জুটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৯৫ রান। ২৪ বলে ৪৭ করে থামেন ডি কক। অধিনায়কের সঙ্গে নেমে এরপর বাকি কাজ দ্রুত সারেন রিকেলটন। দ্বিতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন থেকে ৫০ বলে ৮২ রান যোগ করে জয় নিশ্চিত করেন তারা।