আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের দুই সপ্তাহ আগেই নাটোরের লালপুরে অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলসের ২০২৫-২৬ মৌসুমের মাড়াই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গত বছরের ১০ নভেম্বর মাড়াই মৌসুম শুরু হয়। সূত্র জানিয়েছে, ১২২ দিন চালু রেখে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
‘প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করার পর পর্যাপ্ত আখ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২৩ ফেব্রুয়ারি মিলের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হই,’ বলেন মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. আশাব উদ্দিন।
নথি অনুযায়ী, এ মৌসুমে ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আখ থেকে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় চলতি মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, আখ চাষ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকটই উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।
আশাব উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, চাষাবাদে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হলেও বেশ কিছু কারণ প্রভাব ফেলেছে—বিপুল পরিমাণ আখ গুড় উৎপাদক ও অন্যান্য মিলে সরবরাহ করা হচ্ছে; অনেক কৃষক আখের পরিবর্তে অধিক লাভজনক অন্যান্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন।
চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার একর জমি থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও প্রকৃত উৎপাদন তার চেয়ে কম হয়েছে।
স্থানীয় চাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম মণ প্রতি ২৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ থেকে ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ হাজার কৃষক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের পাওনা ১৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও আখ সংকটে চিনির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি।
গত বছর (২০২৪-২৫ মৌসুমে) নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করেছিল। সে তুলনায় প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন কম আখ মাড়াই হয়েছে।