স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬১ রানের দাপুটে জয়ে কার্যত সেমিফাইনালের দুয়ারে পৌঁছে গেছে কিউইরা, আর তাতেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা আরও ঘনিয়েছে পাকিস্তানের ওপর।
সুপার এইটের গ্রুপ ২-এ একটি জয় এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে পাওয়া এক পয়েন্টসহ নিউজিল্যান্ড এখন ৩.০৫ নেট রানরেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে পাকিস্তান, যাদের ভাগ্য এখন নিজেদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অন্য ম্যাচের ফলের ওপরও নির্ভরশীল।
এই বাড়তি চাপের মধ্যেই পাকিস্তানি ক্রিকেট মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন কিংবদন্তি স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। পাকিস্তানের শো টাপম্যাডে তিনি এমন এক অদ্ভুত তত্ত্ব তুলে ধরেন, যা শুনে একই প্যানেলে থাকা মোহাম্মদ হাফিজ, উমর গুল এবং সানা মির হাসি চেপে রাখতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কার পরাজয় কীভাবে পাকিস্তানকে ছিটকে পড়ার মুখে ঠেলে দিয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাকলাইন দল ও সংগঠনকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেন। তাঁর ভাষায়, প্রথম শ্রেণি “বুদ্ধিমান ও সাহসী”—যারা পরিস্থিতি বোঝে, জ্ঞান অর্জন করে এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলে; উদাহরণ হিসেবে তিনি ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কথা বলেন।
দ্বিতীয় শ্রেণি “কম বুদ্ধিমান ও কম সাহসী” এবং তৃতীয় “ভীতু ও কম বুদ্ধিমান”। এরসঙ্গে চতুর্থ ও শেষ শ্রেণিতে তিনি “ভীতু ও বোকা” যা নিজের ভাষায় বলেছেন “বেওকুফ ও বুজদিল”।
সাকলাইন বলেন, শীর্ষে উঠতে হলে জ্ঞান ও সিস্টেম দুটোই জরুরি। ভালো কাঠামোই দলকে বুদ্ধিমান ও সাহসী করে তোলে। তিনি সমালোচনা করেন পাকিস্তানের বোলারদের প্রস্তুতি নিয়েও, তার মতে, অনেক সময় তারা কেবল ফিল্ড সেটিং দেখিয়ে পরিকল্পনা বোঝায়, যা অপরিকল্পিত পদ্ধতি। বিপরীতে উন্নত দলগুলো প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ করে ওভারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ পরিকল্পনা সাজায়।
তবে তার এই দীর্ঘ ব্যাখ্যার মাঝেই হাসির বিস্ফোরণ ঘটে। হাফিজ সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আমরা তাহলে কোন ক্যাটাগরিতে?” সঙ্গে সঙ্গে একই প্রশ্ন তোলেন গুল ও সানা মিরও। পরে হাফিজ মজার ছলে যোগ করেন, “আমি তো আমাদের দলকে দশ নম্বর পজিশন দিয়েছি!”
এদিকে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের আশা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের ওপর। ইতোমধ্যেই শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করা ইংল্যান্ড যদি কিউইদের হারাতে পারে, তাহলে পাকিস্তানকে টিকে থাকতে হলে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততেই হবে। নইলে সাকলাইনের তত্ত্বের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কঠিন বাস্তবতাই সত্যি হয়ে উঠবে।