‘হাসছে’ জীবাশ্ম

Date:

নর্থাম্বারল্যান্ডের হলি আইল্যান্ডে হাঁটছিলেন ৬৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিন ক্লার্ক। হাঁটার সময় জীবাশ্ম খুঁজছিলেন তিনি। এমন সময় কিছু একটা তার নজর কাড়ে।

ক্লার্ক দেখতে পান, একটি ছোট পাথর যেন তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। মনে হচ্ছিল, এটি কারো নকল দাঁত। পাথরটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে এর ছবি একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন।

ওই পোস্টে হাজারো লাইক-কমেন্ট পড়ে। তার অনুমান ছিল, এটি প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণী। ওই পোস্টে অনেকে তার ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

প্রতি বছর ক্লার্ক ও তার স্বামী জেরার্ড নর্থাম্বারল্যান্ডে ছুটি কাটাতে যান। সেখানে তারা নিয়মিত হলি আইল্যান্ডে ছোট ছোট জীবাশ্ম খুঁজতে বের হন।

এটি এমন একটি দ্বীপ, যেখানে ১৫০ জনের বেশি লোক থাকেন না। সাগরের পানিতে এটি রোজ দুইবার মূলভূমি থেকে আলাদা হয়ে যায়। স্থানটিকে ইংল্যান্ডে খ্রিস্টধর্মের সূচনার স্থান হিসেবে মনে করা হয়।

ক্লার্ক রসিকতার সঙ্গে বলেন, আমি দেখতে পেলাম এই জীবাশ্ম আমার দিকে হাসছে। প্রথমবারের মতো আমি দাঁতের মতো কিছু দেখলাম।

বিবিসি ব্রিটিশ জিওলজিকাল সার্ভের (বিজিএস) কাছ থেকে জীবাশ্মটি শনাক্ত করিয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছে, এটি একটি ক্রিনয়েডের বড় অংশ।

ক্রিনয়েড নামের সামুদ্রিক প্রাণী প্রায় ৫০০ মিলিয়ন বছর আগে কেম্ব্রিয়ান যুগে প্রথম দেখা দেয়। এর কিছু রূপ এখনো বিদ্যমান।

এর একটি নমনীয় ডাল থাকে, যা সমুদ্রের তলায় আটকানো থাকে। ডালের উপরের অংশে প্রাণীর মূল দেহের চারপাশে শাখাযুক্ত বাহু থাকে। যদিও এটি একটি প্রাণী, এই বিন্যাসের কারণে এর ডাক নাম ‘সি লিলিস’।

ব্রিটিশ জিওলজিকাল সার্ভের (বিজিএস) সিনিয়র জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞ ড. জ্যান হেনিসেন ব্যাখ্যা করেন, ডালটি ছোট ছোট ডিস্ক দিয়ে তৈরি, যেগুলোকে অসিকলস বলা হয়। ক্রিস্টিন ক্লার্ক যা পেয়েছেন তা হলো এসব ডিস্কের একাধিক সংযুক্ত অংশ, যাকে কলামনাল বলা হয়।

ডালটি লম্বাভাবে বিভক্ত এবং বাঁকানো, তাই এটি অদ্ভুতভাবে মুখের মতো দেখায়। ড. হেনিসেন বলেন,  এটি সম্ভবত অ্যালস্টন ফর্মেশন নামক গাঢ় চুনাপাথরের অংশ, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর পুরনো।

ক্রিনয়েড হলো একাইনোডার্মাটা পর্বের প্রাণী, যার মধ্যে সি আর্চিন এবং সি কিউকাম্বারও রয়েছে। সম্পূর্ণ ক্রিনয়েড পাওয়া খুবই বিরল, সাধারণত ডাল বা শাখা গঠনের আলাদা ডিস্ক পাওয়া যায়, এগুলো প্রায়শই পোলো মিন্টসের মতো দেখতে হয়।

ক্রিনয়েডের জীবাশ্ম নর্থাম্বারল্যান্ডের উপকূলে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। ড. হেনিসেন বলেন, সাধারণত সেখানে এগুলো খুঁজে পাওয়া খুব সহজ।

‘প্রাণীর আকার সাধারণত চারপাশের পাথরের চেয়ে ভিন্ন—হয় রঙে ভিন্ন বা গঠনে ভিন্ন,’ বলেন তিনি। ‘এবং আপনি এই সুনির্দিষ্ট রেখাগুলো  দেখতে পাবেন, যা চারপাশের শক্ত হয়ে যাওয়া কাদা বা কাদামাটির পাথরের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।’

অনেকে ক্রিস্টিন ক্লার্কের কাছ থেকে তার এই জীবাশ্ম কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু আপাতত তিনি এটি নিজের কাছেই রাখতে চাচ্ছেন।

Popular

More like this
Related

মেয়াদ শেষ হয়নি, তবে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন চাই: চসিক মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আদালতের...

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেউ নষ্টের চেষ্টা করলেও, তা সফল হবে না: চীনা রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের সঙ্গে সহযোগিতা কোনো...

গ্রিনল্যান্ডে ভাসমান হাসপাতাল পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প, ‘প্রয়োজন নেই’ ডেনমার্কের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে একটি ভাসমান...

গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ ও...