ভারতীয় ক্রিকেট দল নিয়ে নিজের করা বিতর্কিত মন্তব্যে অটল রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারবে না বলে আবারও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে এই বাঁহাতি পেসার এক বিস্ফোরক দাবিতে জানিয়েছিলেন, সুপার এইটের গ্রুপ-১ থেকে ভারত উতরে পর্বে যেতে পারবে না। তার মতে, টুর্নামেন্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতীয়দের চেয়েও গোছানো ক্রিকেট খেলছে। আমিরের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভারতীয় সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি।
বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন আমির। এর আগে তিনি তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মাকে স্রেফ একজন ‘স্লগার’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
সম্প্রতি ‘হারনা মানা হ্যায়’ নামক একটি টিভি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন আমির। সেখানে উপস্থাপক অভিষেক শর্মা এবং ভারতীয় দল নিয়ে তার আগের মন্তব্যগুলো নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। আমির পরিষ্কার জানিয়ে দেন, সূর্যকুমারের দল সেমিফাইনালে যাবে না বলেই তিনি মনে করেন।
আমির বলেন, ‘এটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমি বলছি না যে ভারত একটি খারাপ দল। তাদের ব্যাটিং এবং পুরো ইউনিটের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করেই আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। আমার কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বেশি শক্তিশালী দল মনে হয়েছে, তাই সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে আমি ভারতকে রাখিনি।’
সমালোচনার জবাবে আমির আরও যোগ করেন, ‘আপনারা আমার মতামত পছন্দ বা অপছন্দ করতেই পারেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। আপনারা কি চান আমি জোর করে বলি যে ভারত ফাইনালে পৌঁছাবে? তারা ফাইনালে পৌঁছাক বা না পৌঁছাক, তাতে আমার কী আসে যায়? আমি কেবল মনে করি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে যাবে কারণ তারা পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট খেলছে।’
নিজের বক্তব্যের ইতি টেনে আমির বলেন, ভারত যদি তাকে ভুল প্রমাণ করে ফাইনালে যায়, তবে সেটি ভালো কথা। কিন্তু তাতে তার ব্যক্তিগত কোনো মাথাব্যথা নেই।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া, পাকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে উঠেছে ভারত। গ্রুপ-১ এ তাদের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়ে। গত তিনটি আইসিসি ইভেন্টে অপরাজিত থাকা ভারতের সামনে এবার সুযোগ রয়েছে ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ে এবং ১ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে ভারত।