একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে একটি টিম হিসেবে কাজ করি, তাহলে উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সফল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে একটা বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিধ্বস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আমরা জনগণের ট্যাক্সে চলি, তাই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব।’
বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেভাবে দুর্বল, অকার্যকর বা আস্থাহীন হয়ে পড়েছিল, সেগুলো পুনরায় সচল ও কার্যকর করতে সরকার এখন নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা মানে কেবল প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়, বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।’
গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গ্রামের মানুষ কষ্টে রয়েছে—এটি শুধু একটি আবেগের কথা নয়, বরং একটি বাস্তব সামাজিক সত্য। তাদের কষ্ট লাঘব করা রাষ্ট্র, সমাজ ও সচেতন নাগরিক সবারই দায়িত্ব। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে গ্রামের মানুষের কষ্ট দূর করতে কাজ করছে সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার বার্তা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মানে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকার।’
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এগুলো জনগণের সঙ্গে করা একটি সামাজিক চুক্তি। তাই মানুষের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরিতে এই মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বিভাগের সার্বিক কার্যাবলি উপস্থাপন করেন। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।