ফলাফলের দিকে তাকালে মনে হতে পারে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মাধ্যমে খেলাটিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার যে স্বপ্ন আইসিসি দেখেছে, তা বড়সড় ধাক্কা খেল। চলতি বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলোর পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে তারা পেছনের দিকে হাঁটছে—পাঁচ বিশ্বকাপ পর তাদের কেউ সুপার এইটে উঠতে পারেনি। তবে ফলাফল সব সময় আসল ছবি দেখায় না।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চলা ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে মোট আটটি সহযোগী দেশ অংশ নিচ্ছে। আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর কাউকে তারা হারাতে পারেনি।
বুধবার সুপার এইটের আট দল চূড়ান্ত হয়েছে, সেখানে কোনো সহযোগী জায়গা পায়নি। এর ফলে গত পাঁচটি আসর ধরে চলে আসা একটি রেকর্ড ভেঙে গেল। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে প্রতিটি আসরেই অন্তত একটি সহযোগী দেশ দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছে।
২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডস, ২০১৬ সালে আফগানিস্তান, ২০২১ সালে স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া, ২০২২ সালে আবারও নেদারল্যান্ডস এবং ২০২৪ সালে সহআয়োজক যুক্তরাষ্ট্র এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল।
তবে শুধু ফলাফল দিয়ে সবটুকু বিচার করা ঠিক হবে না। এটা সত্যি যে সহযোগী দেশগুলো বড় দলগুলোকে হারাতে পারেনি, কিন্তু কেউ কেউ জয়ের একেবারে দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিল। এমনকি একটি-দুটি মুহূর্ত এদিক-সেদিক হলে গোটা টুর্নামেন্টের চিত্র ভিন্ন হয়ে যেতে পারত।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই কলম্বোতে নেদারল্যান্ডস পাকিস্তানকে প্রায় হারের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। ১৪৮ রান তাড়া করতে নামা পাকিস্তানের ১১৯ রানেই ৭ উইকেট তুলে নিয়েছিল তারা। কিন্তু ফাহিম আশরাফের ১১ বলে ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস পাকিস্তানকে রক্ষা করে।
একই দিনে মুম্বাইয়ে, যুক্তরাষ্ট্র স্বাগতিক ভারতকে মাত্র ৭৭ রানে ৬ উইকেটে ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ৪৯ বলে ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস ভারতকে ১৬১ রানে নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নাগালের বাইরে চলে যায়।
ম্যাচ দুটির ফলাফল অন্যরকম হতে পারত যদি নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্স ও’দাউদ ৭ রানে ফাহিমের ক্যাচ না ছাড়তেন, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের শুভম রঞ্জনে ১৫ রানে সূর্যকুমারের ফিরতি ক্যাচটি লুফে নিতে পারতেন।
সবচেয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই করেছে নেপাল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয়ের মুখে দাঁড়িয়ে শেষ ওভারে ১০ রান তুলতে না পেরে তারা মাত্র ৪ রানে হেরে যায়।
তবে এই হার-জিতের বাইরেও সহযোগী দেশগুলো টুর্নামেন্টে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। নেপালি সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন সবার মন জয় করেছে। তাদের দলও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয় দিয়ে সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেই ইতালি দারুণ ছাপ ফেলেছে। বিশেষ করে নেপালের বিপক্ষে ১০ উইকেটের বড় জয়টি ছিল চোখে পড়ার মতো। ইংল্যান্ডের মতো দলকেও প্রবল চাপে ফেলেছিল তারা।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও অনেকে উজ্জ্বল ছিলেন। কানাডার ১৯ বছর বয়সী তরুণ যুবরাজ সামরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াকু ১১০ রানের ইনিংস খেলেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পেসার শ্যাডলি ভ্যান শ্যালকউইক গতকালের ম্যাচের আগপর্যন্ত ৪ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিলেন।
ভাগ্যের একটু সহায়তা পেলে সহযোগী দেশগুলোর জন্য এটি অন্যতম সফল একটি বিশ্বকাপ হতে পারত। ফলাফল যা-ই হোক, মাঠের লড়াইয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে বড় দলগুলোর সঙ্গে তাদের ব্যবধান কমে আসছে।