ওষুধ শিল্পে পাকিস্তানের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে আফগানিস্তান।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ থেকে ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি। তবে হঠাৎ এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ওষুধবাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান এতদিন তার মোট ওষুধ চাহিদার বড় একটি অংশ পাকিস্তান থেকে আমদানি করতো। কিছু ক্ষেত্রে এ নির্ভরতা অর্ধেকেরও বেশি ছিল। সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে আমদানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ ও বিকল্প উৎস খোঁজার নির্দেশনার পর বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে।
কাবুলের বিভিন্ন ফার্মেসি মালিক এএফপিকে জানিয়েছেন, কিছু জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ কমেছে, আবার কিছু ওষুধের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে।
আমদানিকারকদের দাবি, পাকিস্তান সীমান্তপথে সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এখন ইরান সীমান্ত দিয়ে পণ্য আনতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুটিই বেড়েছে।
আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফত জামান এএফপিকে বলেন, পাকিস্তানি ওষুধের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, আমরা নকল ও ভেজাল ওষুধ পেতাম।
এএফপি জানায়, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এবং কম দামে মানসম্মত ওষুধ সক্ষমতা রয়েছে। তাই কাবুল বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও ইরানের সঙ্গে আমদানি-সংক্রান্ত আলোচনাও শুরু হয়েছে।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ চেইন পুনর্গঠনে সময় লাগবে। নতুন দেশ থেকে আমদানি, মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও শুল্ক প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থিতিশীলতা আসবে না। ফলে স্বল্পমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধি ও ঘাটতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে আফগান সরকার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর কথাও বলছে। কিন্তু ওষুধশিল্পে কাঁচামাল আমদানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সংকটের কারণে দ্রুত স্বনির্ভর হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে পাকিস্তান নির্ভরতা কমানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বহুমুখী বাণিজ্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।