সাড়ে ৩ মাসে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় নিহত ১০, আহত ২৫০৩: এইচআরএসএস

Date:

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫০৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরবর্তী’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মো. ইজাজুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থাটি দেশের ৬৪ জেলায় ৫৬৫ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে। তারা ১০০টি আসনের ১ হাজার ৭৩৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া ৩৪৭ জন পর্যবেক্ষক ভোট গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন।

তবে ইজাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সমর্থকদের দ্বারা অন্তত ৪৮ জন পর্যবেক্ষককে গণনাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি কিংবা বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী, গণনার সময় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিত থাকার সুযোগ আছে।

তিনি জানান, সারাদেশে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম বিগত সময়ের তুলনায় সুষ্ঠু, সহিংসতামুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তাদের পর্যবেক্ষণে ২১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম ও পর্যবেক্ষণে কিছু অনিয়ম ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

সংস্থাটির প্রোগ্রাম অফিসার সাইফুল ইসলাম বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠ করে শোনান।

তিনি জানান, ভোটের দিন সারা দেশে মোট ৩৯৩টি অনিয়ম ও সংঘর্ষের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল—১৪৯টি কেন্দ্রভিত্তিক বিশৃঙ্খলা, ১০৫টি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ৫৯টি ব্যালট স্টাফিংয়ের অভিযোগ, ১৯টি পোলিং এজেন্ট অপসারণ, ১৩টি নির্বাচনী কর্মকর্তার গাফিলতি, ১৮টি ভোটার বাধা, ৬টি প্রার্থীর ওপর হামলা, ৩টি ব্যালটবক্স ছিনতাই, ২টি অগ্নিসংযোগ এবং ৩১টি অন্যান্য অনিয়ম ছিল।

ভোটের দিন সংঘর্ষে মোট ১৪৫ জন আহত হন। এছাড়া ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, ১৩ জন প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয় এবং ৫৫টি ঘটনায় কারাদণ্ড বা জরিমানা দেওয়া হয়।

এছাড়া ভোটের দিন পাঁচজন সাংবাদিক আহত হন, তিনটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল করা হয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ৬৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।

এইচআরএসএস জানায়, অক্টোবর ২০২৫ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সারাদেশে ৭০০টির বেশি নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন নিহত ও ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

অন্তত ৩৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নির্বাচনী কার্যালয় ও ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর, লুট বা অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে।

১১ ডিসেম্বর ২০২৫ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ২৫৪টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়। এতে ১ হাজার ৬৫০ জন আহত ও পাঁচজন নিহত হন। এই সময়ে অন্তত ২৪ জন গুলিবিদ্ধ হন এবং ২০০টির বেশি বাড়িঘর ও স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

ফলাফল ঘোষণার পর সহিংসতা অন্তত ৩০ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের ২০০টির বেশি সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি আহত হন এবং অন্তত ৩৫০টি কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ করা হয়। নিহত ১০ জনের মধ্যে তিনজন ফলাফল ঘোষণার পর নিহত হন।

এছাড়া গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩২টি ঘটনায় নারীদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এইচআরএসএস। এতে ৪৫ নারী হয়রানির শিকার এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। 

সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস। ভবিষ্যতে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

Popular

More like this
Related

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনকালীন বিরোধের জেরে যুবককে গুলি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় নির্বাচনকালীন স্থানীয় বিরোধের জেরে এক যুবক...

ওষুধ বাজারে অস্থিরতা: বাংলাদেশসহ বিকল্প উৎসে ঝুঁকছে আফগানিস্তান

ওষুধ শিল্পে পাকিস্তানের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে...

মন্ত্রিপরিষদে ডাক পাননি বিএনপির যে জ্যেষ্ঠ নেতারা

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ মন্ত্রী ও ২৪...

গণভোটের ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি...