গণভোটে ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার অংশ নিয়েছেন এবং তারা জুলাই সনদে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
আজ শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা স্পষ্টভাবে এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন। তারা পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চান না। তারা রাষ্ট্রকাঠামোয় পরিবর্তন ও সংস্কার চান।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, গণভোটে মোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আর ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন, যা কাস্ট হওয়া ভোটের প্রায় ৩১ শতাংশ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে গণভোটে ভোটারের অংশগ্রহণ সামান্য বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো তিনটি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল যুক্ত হওয়া বাকি। ৩০০ আসনের ফল যুক্ত হলে এই ব্যবধান কমে আসতে পারে। তবে কিছু ভোটার কেবল গণভোটে ভোট দিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে ভোট দেননি।
এই ফলাফলকে কেবল সংখ্যার বিচারে না দেখার আহ্বান জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘জনগণের এই রায় হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা অকুতোভয়ে লড়াই করেছেন—তারা আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তার স্বীকৃতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ১৬ বছর ধরে যে বীরের রক্তস্রোত, মাতার অশ্রুধারা, নির্যাতিতের হাহাকার—তার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের জন-আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ এই রায়।’
অধ্যাপক রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, বিপুল ‘হ্যাঁ’ ভোট জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট। এটিকে কেবল সরকারের অবস্থান হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রীয় এজেন্ডা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটাররা পরোক্ষভাবে দলের ইশতেহার অনুমোদন করেন। কিন্তু গণভোটে তারা সরাসরি সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।’
তিনি জানান, চারটি প্রধান ক্যাটাগরির অধীনে প্রায় ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে তিনি মনে করেন।
সংবিধান সংস্কার আদেশ ২০২৫ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা এমপি এবং পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি আলাদা শপথ নেবেন এবং সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১৮০ দিন সময় পাবেন।
নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ইশতেহার ও গণভোটের প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, সব দল আলোচনার মাধ্যমে জনগণের রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করবে বলেই তিনি আশা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূস আগেই তার আগের দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিজেও শিগগিরই শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।