নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার নিন্দা, ফলাফলকে ‘ভিত্তি’ বললেন জামায়াত আমির

Date:

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এর নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। 

একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে হতাশ না হয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের এটিকে একটি ‘ভিত্তি’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত রাতে ও আজ দুপুর ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক দুটি পোস্টে তিনি নেতা-কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। 

গত রাতের পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের ফল নিয়ে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন ও হতাশ হয়েছেন, তবে আপনাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। দলের আসন প্রায় চারগুণ বেড়েছে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই এটিকে পরাজয় নয়, বরং একটি ভিত্তি হিসেবে দেখতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, অনেকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের সাহস দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাজনীতিতে উত্থান-পতন স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বিএনপির উদাহরণ টেনে বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপির আসন কমে ৩০টিতে নেমে এসেছিল, কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছরের পথচলা শেষে ২০২৬ সালে তারা আবার ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি দীর্ঘ পথের যাত্রা, এখানে ধৈর্য ও অধ্যবসায় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দল হিসেবে জামায়াতের লক্ষ্য স্পষ্ট—জনগণের আস্থা অর্জন, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীল প্রস্তুতি নেওয়া।

আজ শনিবার দুপুরে দেওয়া অন্য এক পোস্টে শফিকুর রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়, এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের মূল শর্ত হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান।’

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের সমর্থক, ১১-দলীয় জোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী এমনকি বিএনপির মতের সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান থাকার কারণে অনেকে হামলার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন।

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। প্রতিটি ঘটনা নথিভুক্ত করে যথাযথভাবে তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।

দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও নির্দেশ দেন তিনি। প্রয়োজনে ছবি ও ভিডিওসহ প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমা দিতে এবং প্রয়োজন হলে গণমাধ্যমে প্রকাশের কথাও বলেন।

আসন্ন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে আমাদের এই অঙ্গীকারকে কেউ দুর্বলতা মনে করবেন না।’ 

এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিবৃতিটি শেষ করেন জামায়াত আমির।

 

Popular

More like this
Related

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনকালীন বিরোধের জেরে যুবককে গুলি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় নির্বাচনকালীন স্থানীয় বিরোধের জেরে এক যুবক...

ওষুধ বাজারে অস্থিরতা: বাংলাদেশসহ বিকল্প উৎসে ঝুঁকছে আফগানিস্তান

ওষুধ শিল্পে পাকিস্তানের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে...

মন্ত্রিপরিষদে ডাক পাননি বিএনপির যে জ্যেষ্ঠ নেতারা

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ মন্ত্রী ও ২৪...

গণভোটের ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি...