জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, যারা শেখ হাসিনার পতনে কষ্ট পায়, তারাই দেশে আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়।
আজ বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর মুক্তমঞ্চ ও সরাইল উপজেলা সদরে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুশাসন, সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করার আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
১১ দলীয় জোট নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোট প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আলেম-ওলামাদের দমন ও বঞ্চনার মধ্য দিয়ে একটি বড় জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হেফাজত আন্দোলন ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনা হয়েছে। ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা, ইসলামিক গবেষণা, ব্যাংকিং, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জাতীয় পে স্কেল কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে ১১ দলীয় জোটের অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার গঠিত হলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদেরও পে স্কেলের আওতায় আনা হবে।
সরাইলের জনসভায় আসিফ মাহমুদ বলেন, নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানোর রাজনীতি নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সরাইল উপজেলা ১১ দলীয় জোটের সভাপতি মো. এনাম খাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব জনসভায় ১১ দলীয় জোট ও এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভায় অংশ নেন।