পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিসে গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে হওয়া ওই সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের ওপর হামলার জন্য হাসান মামুনকে অভিযুক্ত করেন নুর।
এর আগে মামুনের অফিসে হামলায় অন্তত ৭ জন আহত হন বলে জানা যায়। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাইন পারভেজ দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আহতদের মধ্যে রাকিবুল ইসলাম জুয়েল (৩৫), মো. রফিক (৩২) ও রিফাতকে (২৮) গতকাল রাতেই দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
আহত রাকিবুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম। হঠাৎ গণঅধিকার পরিষদের ২০-২৫ জন লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের নির্বাচনী অফিসে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। আমরা বাধা দিলে আমাদের বেধড়ক মারধর করে।’
ওসি হাসনাইন পারভেজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন। এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি নির্বাচনী গণসংযোগে গলাচিপা উপজেলায় ছিলাম। বিষয়টি শুনে থানায় জানিয়েছি। আমার জনপ্রিয়তা দেখে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। জনগণই এসব অপশক্তির জবাব দেবে।’
আজ সংবাদ সম্মেলনে নুর বলেন, ‘এই নির্বাচন যদি সঠিক সময় না হয় তাহলে বাংলাদেশ বড় বিপর্যয়ে পড়বে। আমরা অন্যদেরকেও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন অশালীন এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনায় থাকতে চান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রাস্তাঘাট ও বাজারঘাটে দেখা হলে তাদের সাথে নানা ধরনের সংঘাত ও ঝামেলা করা হচ্ছে। গত পরশুদিন পানপট্টিতে লিফলেট দিয়ে যাওয়ার পথে আমাদের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।’
নুর বলেন, ‘চরবোরহানে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করতে গেলে হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুর করে। সাথে সাথে পুলিশ সুপারকে জানালে তিনি পুলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়। পুলিশ যাবে এই খবর পেয়েই তারা নিজেদের অফিস নিজেরাই ভাঙচুরের নাটক সাজায়। নিজেদের ধারণ করা ভিডিও বিভিন্ন সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে প্রচার করায়।’
এসময় তিনি চরবোরহানে তার কার্যালয়ে হামলার ভিডিও দেখান। নির্বাচনকালীন সময়ে ভুল সংবাদ যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করার আহ্বান জানান নুর। পরবর্তীতে ভুল সংবাদ প্রচারের জন্য সংবাদকর্মীরাই দায়ী থাকবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।