বহুল প্রতীক্ষিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আগামীকাল মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। শেষবার শাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৭ সালে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছয়টি ভোটকেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।
এবারের শাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৩০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯৭ প্রার্থী। একইসঙ্গে ছয়টি আবাসিক হলে ভিপি, জিএসসহ বিভিন্ন পদে আরও ৮৪ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
শাকসুর আচরণবিধি অনুযায়ী, গতকাল রাত ৯টার মধ্য দিয়ে সব ধরনের প্রচারণা শেষ করার কথা থাকলেও পরে প্রচারণার জন্য আরও ১২ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মূলত তিনটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে লড়াই হচ্ছে। ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ এবং বাম সমর্থিত ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল ২২টি পদে প্রার্থী দিয়েছে। এই প্যানেল থেকে ভিপি পদে মুস্তাকিম বিল্লাহ, জিএস পদে মারুফ বিল্লাহ এবং এজিএস পদে জহিরুল ইসলাম জহির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হয়েছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে লড়ছেন মুজাহিদুল ইসলাম এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রার্থী মোহাম্মদ শাকিল। এই প্যানেল কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদেই প্রার্থী দিয়েছে।
এ ছাড়া বাম সমর্থিত ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল ১৩টি পদে অংশ নিচ্ছে। এই প্যানেল থেকে ভিপি পদে মুহুয়ী শারদ, জিএস পদে মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিফাত এবং এজিএস পদে হাফিজুর ইসলাম হাফিজ প্রার্থী হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, শিক্ষাভবন-সি, ডি ও ই-তে একটি করে ভোটকেন্দ্র, নতুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে দুটি এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবনে একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। হলভিত্তিক ভোটারদের জন্য কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে আগেই।
ভোটার তালিকা অনুযায়ী, শাহপরাণ হলে দুই হাজার ২১৬ জন, বিজয়-২৪ হলে দুই হাজার ১৭৫ জন, সৈয়দ মুজতবা আলী হলে এক হাজার ৪২৫ জন, আয়েশা সিদ্দিকা হলে এক হাজার ৩৪৬ জন, বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলে এক হাজার ১৮১ জন এবং ফাতিমা তুজ জাহরা হলে ৬৮৭ জন ভোটার রয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে এবং নির্ধারিত সময়েই ভোট শেষ করা হবে। ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।