গাইবান্ধার স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেল রংপুরে

Date:

গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমানকে অচেতন অবস্থায় রংপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাতের দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ক্যাডেট কলেজ এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের মহাসড়ক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আজিজার রহমান মহাসড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে পড়ে থাকলেও প্রথমে কেউ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি।

আজিজার রহমান সাদুল্লাপুর উপজেলার ঘেগারবাজার খোদা বকস গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রজ্জব উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে।

উদ্ধার হওয়া আজিজার রহমান জানান, তিনি গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করেন। 

ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে তিনি ঢাকায় যান। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রংপুরগামী পিংকী পরিবহন নামের একটি বাসে করে গাইবান্ধার উদ্দেশে রওনা দেন।

তিনি বলেন, ‘বাসটি সিরাজগঞ্জ এলাকায় থামলে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে আমিও নামি। এ সময় পাশে বসা কয়েকজন যাত্রী আমাকে একটি সেদ্ধ ডিম খেতে দেন। ডিম খাওয়ার পর থেকেই আমি আর কিছু বুঝতে পারিনি।’

আজিজার রহমানের অভিযোগ, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে বাসের ড্রাইভার ও সুপারভাইজার তাকে অচেতন অবস্থায় রংপুর নগরের ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘বাসের ড্রাইভার ও সুপারভাইজার আমাকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে যায়। এটি চরম অমানবিকতা। আমার কাছে থাকা চার-পাঁচ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ 

এ সময় তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন এবং স্পষ্টভাবে কথা বলতেও পারছিলেন না বলেও জানান।

রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সারাদিন পথচারীসহ আশপাশের লোকজন তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বা গুরুতর অসুস্থ ভেবে উদ্ধারের উদ্যোগ নেননি। 

সন্ধ্যা ৬টার দিকে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্যকে এলাকাবাসী বিষয়টি জানালে তিনি তাজহাট থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি জ্ঞান ফিরে পান। খবর পেয়ে সাদুল্লাপুর থেকে তার স্বজনরা তাজহাট থানায় ছুটে আসেন। 

আজিজার রহমানের বড় ছেলে আশিকুর রহমান বলেন, ‘বাবাকে রাতে বারবার ফোন দিলেও পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ফোন ধরলে অচেনা লোকজন কথা বলে টাকা দাবি করে। তারা বাবাকে হত্যার হুমকিও দেয়। রাত আড়াইটার দিকে বিকাশে দুই হাজার ৫০০ টাকা পাঠানো হয়।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবাকে পরিকল্পিভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় রংপুরের তাজহাট থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।’

তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, ‘গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন।’ 

Popular

More like this
Related

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক জামায়াতে ইসলামীর আমির...

নির্বাচনী প্রচারে এআই ভিডিওর অপব্যবহার, বিভ্রান্ত হচ্ছেন ভোটাররা

গত ১১ জানুয়ারি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে...

দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে তার দল...

ইয়ুথ পলিসি টক: বিদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষাঋণ চালুর পরিকল্পনা তারেক রহমানের

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্য সহজ শর্তে...