ঈশান কিষাণ যখন ব্যাটিং করছিলেন তখন মনে হয়েছিল, উইকেটে রান তোলা যেন ছেলের হাতে মোয়া। দারুণ সব শটে খেলেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। তবে তিনি ছাড়া বাকি ব্যাটাররা সে অর্থে জ্বলে উঠতে পারেননি। তারপরও প্রেমাদাসার স্পিন সহায়ক উইকেটে বড় পুঁজিই গড়েছে ভারত।
রোববার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করেছে পাকিস্তান। অর্থাৎ জিততে হলে পাকিস্তানকে গড়তে হবে এখানে তৃতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করার রেকর্ড। আর যদি শিশির না পড়ে, তাহলে সেটি হওয়া খুবই কঠিন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এর সবচেয়ে বড় কারণ ঈশান কিষাণেরর দুর্দান্ত ৪০ বলে ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংস। যেখানে ১০টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। বাকি ৮০ বল থেকে এসেছে (অতিরিক্তসহ) ৯৮ রান। ম্যাচে বেশ কিছু বল তীব্রভাবে ঘুরতে দেখা গেছে। যে কারণে এক ইনিংসে ১৮ ওভার স্পিন ব্যবহার করেছেন পাক অধিনায়ক সালমান আলী আগা, যা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
সাইম আইয়ুব, উসমান তারিক, সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ নওয়াজ ভালো বোলিং করলেও কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। দুই বাঁহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে শাদাব খানকে ব্যবহার, বাজে দিন কাটানো সত্ত্বেও আবরার আহমেদকে আবার আক্রমণে আনা, এবং শেষ ওভারে রিঙ্কু সিংকে পেস দেওয়া, সব মিলিয়ে সিদ্ধান্তগুলো পাকিস্তানের জন্য ব্যুমেরাং হয়েছে। এই তিন বোলার মিলে ছয় ওভারে দিয়েছেন ৮৬ রান।
পেটের সমস্যার কারণে আগের ম্যাচ মিস করা ওপেনার অভিষেক শর্মা দলে ফিরলেও স্থায়ী হতে পারেননি। মাত্র চার বল খেলেই শূন্য রানে আউট হন তিনি। তবে সঙ্গীর বিদায়ে বিচলিত হননি কিষাণ। পাকিস্তানি বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হয়ে ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন, যার মধ্যে ছিল ২টি ছক্কা ও ৭টি চার। চারদিকে দাপুটে শট খেলতে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটারকে থামানো যাচ্ছিল না। তাই স্পিনার সাইম আইয়ুবের তুলনামূলক সোজা বল মিস করে বোল্ড হয়ে যাওয়াটা ছিল বড় বিস্ময়।
আউট হওয়ার সময় ভারতের ৮.৪ ওভারে ২ উইকেটে ৮৮ রানের মধ্যে একাই তার সংগ্রহ ছিল ৭৭। পুরো ইনিংসে তিনি মারেন ৩টি ছক্কা ও ১০টি চার। কিষাণ উইকেটে থাকাকালে ভারতকে ২০০ ছাড়ানো স্কোরের পথে মনে হচ্ছিল। কিন্তু তাঁর বিদায়ের পরই ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। ১৪ ওভারে দ্বিতীয় পানীয় বিরতির সময় ভারতের স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ১২৫/২। এরপর তিলক ভার্মা ২৫ রানে আইয়ুবের দ্বিতীয় শিকার হন, এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন।
পরের বলেই বড় ধাক্কা, হার্দিক পান্ডিয়া বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপে ক্যাচ দেন, ফলে আইয়ুব চলে যান হ্যাটট্রিকের সামনে। হ্যাটট্রিক বলটি শিবম দুবেকে পুরোপুরি পরাস্ত করলেও বলটি ঘুরে মিডল স্টাম্পের ওপর দিয়ে লাফিয়ে চলে যায়—অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। আইয়ুব শেষ পর্যন্ত চার ওভারে ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন।
নন-স্ট্রাইকার প্রান্ত থেকে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা সূর্যকুমার ২৯ বলে ৩২ রান করেন। ইনিংসের শেষের দিকে স্পিনার উসমান তারিককে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিডউইকেট বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তিনি।
শেষ ওভারে ২৭ রান করা দুবে রানআউট হন এবং শেষ বলে শূন্য রানে আউট হন অক্ষর প্যাটেল। অপর প্রান্তে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু সিং (১১*)।