সিলেটকে হারিয়ে প্রথম কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত রাজশাহীর

Date:

প্রথম কোয়ালিফায়ারের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্পই ছিল না সিলেট টাইটানসের সামনে। বোলারদের দারুণ প্রচেষ্টায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে নিয়ন্ত্রিত স্কোরেই আটকে রেখেছিল দলটি। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত কাছাকাছি গিয়েও থেমে যেতে হয় সিলেটকে। রোমাঞ্চকর এক জয়ে এককভাবে টেবিলের শীর্ষে উঠে যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ম্যাচে সিলেট টাইটানসকে ৫ রানে হারিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৭ রান করে তারা। জবাবে নিজেদের নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪২ রানের বেশি করতে পারেনি সিলেট। তাতে শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হয় রাজশাহীর। 

ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি রাজশাহীর। দলীয় ২৭ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাহিবজাদা ফারহান। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম মিলে ইনিংস গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। তৃতীয় উইকেটে ৩২ বলে ৫৬ রানের কার্যকর জুটি গড়ে দুজন। এক সময় মনে হচ্ছিল দেড়শ পেরোনো স্কোর গড়বে রাজশাহী।

তবে শান্তকে ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরে সিলেট। এরপর আর বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি তারা। কিছুক্ষণ পর মুশফিকও বিদায় নিলে ইনিংসের গতি পুরোপুরি থেমে যায়। অন্য ব্যাটাররাও ব্যক্তিগতভাবে দাঁড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাঝারি পুঁজিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় রাজশাহীকে।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন মুশফিকুর রহিম। ৩০ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন তিনি। অধিনায়ক শান্ত করেন ২১ বলে ৩৪ রান, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা। শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ১৬ রান যোগ করেন। সিলেটের হয়ে নাসুম আহমেদ ও শহিদুল ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমেও ভালো শুরু পায়নি সিলেট টাইটানস। দলীয় ১৫ রানেই ফিরে যান ওপেনার তৌফিক খান ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন মুমিনুল হক। পরে চতুর্থ উইকেটে আফিফ হোসেনের সঙ্গে যোগ করেন আরও ৩২ রান।

তবে মুমিনুলের ধীরগতির ব্যাটিং সিলেটের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। ৩৬ বল খেলে মাত্র ৩১ রান করেন তিনি। আফিফও ১৫ বলে ১৬ রান করে ফিরলে বেড়ে যায় প্রয়োজনীয় রানরেট। সেই চাপ কমাতে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মঈন আলী। ১২ বলে ১টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ২৭ রান। ইনফর্ম রিপন মণ্ডলকে টানা দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকিয়েও পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

মঈনের বিদায়ের পর কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সিলেট। লেজের ব্যাটাররা কেউই দায়িত্ব নিতে পারেননি। যদিও ইনিংসের শেষ বলে টানা দুটি ওয়াইড দিয়ে উত্তেজনা বাড়ান বিনুরা ফের্নান্ডো। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ বলে রুয়েল মিয়াকে বোল্ড করে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন পারভেজ হোসেন ইমন। ৩০ বলের ইনিংসে ২টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি। রাজশাহীর হয়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ে রিপন মণ্ডল ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নেন ৪টি উইকেট। বিনুরা ফের্নান্ডোর শিকার ২টি।

Popular

More like this
Related

সরকারে যারাই আসুক ২টি সংস্কার ‘অপরিবর্তনীয়’ দেখতে চান আইন উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর যারাই সরকারে আসুক না কেন,...

তানজিদের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর ১৭৪ রানের পুঁজি

ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে...

১০ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি ৩০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুটি

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের প্রায় ৩০ ফুট...

ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেন বিসিবি পরিচালক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ...