অপেক্ষার পালা শেষ হলেও এভাবে জিততে চাননি স্টোকস

Date:

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অ্যাশেজ সিরিজের কোনো টেস্ট জেতায় তারা খুশি। পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতির বিচারে এই জয় আদর্শ নয়।

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বোলারদের জন্য অতিরিক্ত সহায়ক একটি পিচে এই টেস্টটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে মাত্র ১১ দিনের খেলাতে টানা তিনটি টেস্ট হেরে সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে ইংলিশদের।

স্টোকস ও প্রাক্তন অধিনায়ক জো রুট— উভয়ই ২০১৩-১৪ সালের সেই সিরিজের স্কোয়াডে ছিলেন, যারা টানা  তিনটি অ্যাশেজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেবার তারা ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হন। এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা ১৮টি ম্যাচে জয়হীন ছিল ইংল্যান্ড— দেখে ১৬টি হার ও দুটি ড্র।

এবার ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে মেলবোর্নে মাত্র দুই দিনেই জয়ের দেখা পেয়েছে ইংলিশরা। শনিবার ১৭৫ রানের লক্ষ্যে নেমে তারা জিতেছে ৪ উইকেটে। পিচটি ছিল ব্যাটারদের জন্য অত্যন্ত কঠিন, যেখানে দুই দলের কোনো খেলোয়াড়ই হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি।

প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড মাত্র ১১০ রানে অলআউট হওয়ায় ৪২ রানে পিছিয়ে ছিল। এরপর নিজেদের বাজবল কৌশল অবলম্বন করে আক্রমণাত্মক ঢঙে ব্যাট করে মাত্র ৩২.২ ওভারেই তারা লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। রান তাড়ায় জ্যাকব বেথেল (৪০), জ্যাক ক্রলি (৩৭) ও বেন ডাকেট (৩৪) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ম্যাচশেষে টিএনটি স্পোর্টসকে স্টোকস বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা জিতেছি। কিন্তু সত্যি বলতে, জয়টা ঠিক এভাবে আমরা চাইনি। কন্ডিশন পুরোপুরি একটি বিশেষ দক্ষতার (বোলিং) দিকে হেলে ছিল, যা আদর্শ নয়। খেলাটি শেষ হতে দুই দিনও লাগেনি।’

তিনি যোগ করেন, ‘তবে এসব সরিয়ে রাখলে, আপনার সামনে যে পরিস্থিতি আসবে তা মোকাবিলা করতেই হবে। সফল হওয়ার জন্য সেরা উপায়টি বেছে নিতে হয়। ১৭৫ রান তাড়া করা সব সময়ই কঠিন ছিল। তবে আমার মনে হয়, শুরু থেকেই আমরা যেভাবে ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করেছি, সেটাই ছিল সঠিক পথ।’

ম্যাচের আগে স্টোকস অঙ্গীকার করেছিলেন যে, তিনি চাপে থাকা খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়াবেন— বিশেষ করে ডাকেটকে সমর্থন দেবেন। দলের দীর্ঘদিনের দর্শন অনুযায়ী ব্যাটাররা যাতে ভয়ডরহীনভাবে খেলতে পারেন, সেই আস্থা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই বার্তা সতীর্থরা কাজে লাগাতে পারায় তিনি গর্বিত।

ইংলিশ দলনেতা স্টোকস বলেন, ‘প্রথম দিন মাঠে নামার সময় আমার মাথায় ছিল যে, গ্যালারিতে ৯৪ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকবে এবং চারপাশ অনেক উত্তপ্ত অবস্থায় থাকবে। তাই আমার মূল লক্ষ্য ছিল সবাই যেন নিজেদের শরীরী ভাষা ও ফিল্ডিংয়ের তীব্রতা ঠিক রাখে।’

Popular

More like this
Related

চট্টগ্রামসহ দেশের কিছু অংশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের কিছু অংশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার...

‘স্থায়ী চাকরি না থাকাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ’

বাংলাদেশ নারী কাবাডির সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুখগুলোর একজন শ্রাবণী মল্লিক।...

ঈশ্বরদীতে ৮ কুকুরছানাকে পুকুরে ফেলে হত্যা: কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮টি সদ্যোজাত কুকুরছানাকে পুকুরে ফেলে হত্যার ঘটনা...

মালদ্বীপে চার জাতি টুর্নামেন্টের আমন্ত্রণ পেল বাংলাদেশ

মালদ্বীপ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএএম) হীরক জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত...