ট্রাম্পের এয়ারফোর্স ওয়ান বহরে যুক্ত হচ্ছে কাতারের দেওয়া জেট

Date:

গত বছর কাতারের কাছ থেকে একটি বিলাসবহুল জেটবিমান উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এটা এখন পুরনো খবর। জানা গেছে, খুব শিগগির ওই উড়োজাহাজটি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ বহরের অংশ হতে চলেছে।

আজ শুক্রবার মার্কিন বিমানবাহিনীর বিবৃতির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

গত বুধবার এয়ারফোর্স ওয়ানে চেপে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় ঐ উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ফিরে যায়।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এই ত্রুটিকে ‘সামান্য বৈদ্যুতিক গোলযোগ’ দাবি করলেও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে একটি বোয়িং সি-৩২এ উড়োজাহাজে করে দাভোসে পৌঁছান ট্রাম্প। ওই উড়োজাহাজটি সাধারণত ফার্স্ট লেডি বা মন্ত্রিসভার সদস্যরা ব্যবহার করে থাকেন।

এই অঘটনের দুই দিন পরেই এলো নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান নিয়ে হালনাগাদ তথ্য।

প্রায় এক বছর আগে উপহার পাওয়া জেট বিমানটিকে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করার কাজ শুরু হয়।  

বিমানবাহিনীর মুখপাত্র সিএনএনকে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য ভিসি-২৫ ব্রিজ উড়োজাহাজটিকে দ্রুত প্রস্তুত করার লক্ষ্যে বিমানবাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের মধ্যেই এটা সরবরাহ করা হবে।’

তবে ‘সরবরাহ’ করার সঙ্গে সঙ্গেই এটি ট্রাম্পকে নিয়ে আকাশে উড়বে কী না, তা স্পষ্ট নয়। প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী হওয়ার আগে এর আরও পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম গ্রীষ্মের মধ্যে উড়োজাহাজ সরবরাহের বিষয়টি জানানো হয়।

গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে উড়োজাহাজটি প্রস্তুত থাকবে।

তবে সে সময় সংশ্লিষ্টরা একে ‘উচ্চাভিলাষী সময়সীমা’ আখ্যা দেন। যেকোনো উড়োজাহাজকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করতে উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন।

গত বছর থেকেই মার্কিন প্রশাসন ওই জেটের রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে কিভাবে এবং কি কি রূপান্তর করা হচ্ছে, সে বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে।

গত বছর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, কাতারের কাছ থেকে উপহার পাওয়া বোয়িং ৭৪৭ জেটটিকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে যুক্ত করতে হলে উল্লেখযোগ্য রূপান্তর প্রয়োজন। মূলত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই দীর্ঘ সময় ও রূপান্তর প্রয়োজন। 

এয়ার ফোর্স ওয়ান সম্পর্কে জানেন এমন এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে এর আগে বলেছিলেন, ‘উড়োজাহাজটিকে খুব ভালো করে পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে এর প্রতিটি পার্টস খুলে ফেলতে হবে। কোনো ধরনের আড়িপাতার যন্ত্র যাতে না থাকে বা বাইরে থেকে উড়োজাহাজের ইলেকট্রনিক্স যাতে কেউ ছিনতাই করতে না পারে, তা নিশ্চিত হতে হবে। এই উড়োজাহাজ প্রেসিডেন্টকে সবচেয়ে অস্থির সময়ে সামরিক বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশ দেওয়ার সক্ষমতা দেয়। এ বিষয়টিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।’

এয়ারফোর্স ওয়ানের ক্ষেত্রে মধ্য আকাশে তেল ভরতে পারার প্রযুক্তি খুবই জরুরি। এরকম আরও কিছু ফিচার আছে, যা ৭৪৭-এ নেই।

বিমানবাহিনীর মুখপাত্র জানান, তারা অন্যান্য সরকারী সংস্থার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন, যাতে সব ধরনের নিরাপত্তা ও সক্ষমতা নিশ্চিত হয়।

গত বছর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও কাতারের প্রতিনিধি একটি চুক্তি সই করেন। চুক্তি মতে, উড়োজাহাজ উপহারের পেছনে কোনো ‘শর্ত নেই’ এবং কাতারকে এজন্য কোনো অর্থ দেওয়া লাগবে না।

তা সত্ত্বেও, উড়োজাহাজটির রূপান্তরে হাজারো কোটি ডলার খরচ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক গত বছর আইনপ্রণেতাদের জানান, এই প্রকল্পে ‘প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার’ খরচ হবে।

 

Popular

More like this
Related

অ্যাশেজ থেকে ছিটকে গেলেন মার্ক উড

বাকি অ্যাশেজ সিরিজ থেকে ছিটকে পড়তে হলো ইংল্যান্ড পেসার...

মানুষ এখন পর্যন্ত পিআর বুঝতেই পারছে না: ফখরুল

দেশের মানুষ এখন পর্যন্ত পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) বুঝতে পারছে...

ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান ও ফিতনা-আল-খারিজ কী, ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে?

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে আজ...

এনসিএল দীর্ঘ সংস্করণের শিরোপা জিতে রংপুরের ডাবল

রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সিলেট বিভাগের ম্যাচ ড্র...