ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ইশতেহারে দলটি ‘ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক ইসলামী শাসনব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের পাশাপাশি ৬টি কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের আমির মামুনুল হক।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ নয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হবে মানুষ, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা।
ইশতেহারে ঘোষিত ছয়টি অগ্রাধিকার কর্মসূচি হলো—সুষম উন্নয়ন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা; সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা; শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা; স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি; সার্বজনীন, ঐক্যবদ্ধ ও নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং যুবসমাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
খেলাফত মজলিসের ইশতেহারটি মোট পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত।
প্রথম অধ্যায়ে দলটি ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৬ বছরকে ‘ফ্যাসিবাদী শাসনকাল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে একতরফা নির্বাচন, ভোটাধিকার হরণ, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার রাজনৈতিককরণ এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলে। এসব কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে ছয়টি অগ্রাধিকার কর্মসূচি এবং সেগুলোর নীতিগত দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়ে ধর্মীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রনীতি, ইসলামী অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, কওমি মাদ্রাসা, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, নারী ও শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার নিয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসলামী আকিদা ও মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়ে চাঁদাবাজি, ভূমিদখল, ঘুষ ও দুর্নীতি, টেন্ডার কারসাজি, গুম-খুন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন, ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারসহ তথাকথিত রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতার নীতি’ ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। এসব অপরাধ দমনে বিশেষ আইন প্রণয়ন, স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়ে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, রাজনীতিকে আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হবে, ক্ষমতা থাকবে জবাবদিহির আওতায় এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে ন্যায়, মানবিকতা ও আল্লাহভীতির নীতিতে।