৬১ শতাংশ মার্কিনি ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে, কমছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

Date:

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মহাক্ষমতাধর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। এছাড়া, ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেড়েছে।

গতকাল ২৪ মার্চ প্রকাশিত বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসস-এর যৌথ জরিপে এমন তথ্য জানা যায়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৪ দিন ধরে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে—ট্রাম্পের রাষ্ট্রপরিচালনার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন ৩৬ শতাংশ। গত সপ্তাহে তা ছিল ৪০ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া ২৫ শতাংশ মার্কিনি। সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প একে বড় ইস্যু হিসেবে ভোটারদের কাছে তুলে ধরেছিলেন।

এতে আরও বলা হয়, ইরানে শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মার্কিন অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার পেছনে কারণ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে মার্কিন বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেখানে প্রতিদিনের খরচ বেড়ে গেছে।

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক-নীতির প্রতি সমর্থন দিয়েছেন ২৯ শতাংশ মার্কিনি। এটি ট্রাম্পের শাসনামলে তো বটেই, তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের সময়ের মধ্যেও সর্বনিম্ন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সময় জীবনযাত্রার খরচ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পকে বিজয়ী করেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জীবনযাত্রার খরচ কমানোর পাশাপাশি ‘নোংরা যুদ্ধ’ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়—রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখনো অনেক। প্রতি ৫ জনের একজন হোয়াইট হাউসের ভূমিকায় অখুশি। গত সপ্তাহে তা ছিল প্রতি সাত জনে একজন।

অর্থাৎ, নিজ দলে বিরোধী মতের সংখ্যা ধীরে হলেও ক্রমশ বাড়ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে—জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করেছেন ৩৪ শতাংশ। গত সপ্তাহে এটি ছিল ২৭ শতাংশ।

গত বছরের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ। বছরের মাঝামাঝি তা কমে ৪০ শতাংশ হয়। এখন তা আরও কমে ৩৬ শতাংশ হয়েছে।

তবে প্রথম দফার শাসনামলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৩ শতাংশ হয়েছিল এবং বাইডেনের জনপ্রিয়তা কমে হয়েছিল ৩৫ শতাংশ।

জরিপে আরও জানা যায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ মার্কিনি। গত সপ্তাহে রয়টার্স-ইপসস জরিপে তা ছিল ৩৭ শতাংশ।

যুদ্ধের বিরোধিতাকারীর হার বেড়ে হয়েছে ৬১ শতাংশ। গত সপ্তাহে তা ছিল ৫৯ শতাংশ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ রয়টার্স ও ইপসসের জরিপে দেখা গিয়েছিল—প্রায় ৪৩ শতাংশ মার্কিনি যুদ্ধের বিপক্ষে, যুদ্ধের পক্ষে ২৭ শতাংশ এবং ২৯ শতাংশ বলেছিলেন তারা নিশ্চিত নন।

সর্বশেষ জরিপে ‘নিশ্চিত নন’ বলার সুযোগ ছিল না, জানিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়—তাই ৫ শতাংশ উত্তরদাতা ইরান যুদ্ধের বিষয়ে তাদের মত প্রকাশে রাজি হননি।

প্রায় ৪৬ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, ইরানে হামলা চালানোয় যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে আরও ‘অনিরাপদ’ হয়ে যাবে। বিপরীতে ২৬ শতাংশের মতে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র আরও ‘নিরাপদ’ হবে।

ইতোমধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ মার্কিনি মত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ‘কিছুটা দুর্বল’ বা ‘খুবই দুর্বল’।

এমন মনোভাব রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রকাশ করেছেন ৪০ শতাংশ, স্বতন্ত্রদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ।

Popular

More like this
Related

২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে সাইমন ড্রিংয়ের প্রতিবেদনের পেছনের গল্প

‘আল্লাহ ও ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের’ নামে ঢাকা আজ একটি বিধ্বস্ত...

পদ্মার ৮০ ফুট গভীরে বাসটি, বৈরী আবহাওয়ায় ব্যাহত উদ্ধার কাজ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া...

জানালা দিয়ে ছেলেকে বের করে নিজে তলিয়ে যান জ্যোৎস্না

‘যখন বাস ফেরিতে উঠছিল, তখন হঠাৎ করে উল্টে যায়।...

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নাকচ ইরানের, সংঘাত অবসানে পাল্টা ৫ প্রস্তাব

পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে পাল্টা...