চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে এ ইউনিয়নের ৯ গ্রামের নারীরা ভোটকেন্দ্রে যান না। প্রয়োগ করেন না নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার।
অবশেষে তাদের ভোটের অধিকার নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত অবহিতকরণ সভায় নারীদের পর্দার বিধান বজায় রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ডাকাতিয়া নদীর তীরে এই ইউনিয়নের ৯ গ্রামের জনসংখ্যা ২৩ হাজার ৮৫৪। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ২৯৫ জন। পুরুষের চেয়ে যা প্রায় ৩ হাজার বেশি। স্বাধীনতার পর থেকেই রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের প্রচলিত সংস্কৃতি অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার প্রচলন ছিল নারীদের মধ্যে।
কথিত আছে, স্থানীয় এক পীরের নির্দেশে অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থাকতে ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছিলেন।
ইউনিয়নের মোট ২১ হাজার ৬৯৫ জন ভোটারের মধ্যে ১০ হাজার ২৯৯ জনই নারী। প্রাত্যহিক জীবনের নানা প্রয়োজনে তারা ঘরের বাইরে গেলেও নির্বাচনের দিন ঘরেই অবস্থান করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীদের ভীতি ও জড়তা দূর করে পর্দা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় নারীরা।
সভায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘পর্দা রক্ষা করে নারীদের ভোট প্রদান ধর্মের সঙ্গে কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক নয়। নাগরিক অধিকার আদায় এবং যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব।’
ভোটকেন্দ্রে নারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান। তিনি বলেন, ‘ভোট আমাদের অনেক বড় একটি জিম্মাদারি। ভোট হলো আপনার হাতে দেশের চাবি। আমাদের মা- বোনেরা সংসারের চাবির যেমন যত্ন করেন, তেমন দেশের চাবিরও করবেন।’
এছাড়া কোরআন ও হাদিসের আলোকে অন্যান্য বক্তারা ভোটাধিকারের গুরুত্ব এবং সামাজিক উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
শিক্ষিত ও সচেতন নতুন প্রজন্মকে ভোটাধিকারের গুরুত্ব বোঝানোর লক্ষ্যে এই সময়োপযোগী উদ্যোগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা করছে প্রশাসন।