২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দল? খতিয়ে দেখবে ফিফা

Date:

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের আসর আয়োজনের মধ্যেই থেমে থাকতে চাইছে না ফিফা। এবার ২০৩০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৬৪ করার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে এই পরিকল্পনা ইউরোপীয় ফুটবল কর্তাদের একাংশের তীব্র বিরোধিতাও তৈরি করেছে।

সুইস সংবাদমাধ্যম ব্লুউইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ‘৬৪ দলের বিশ্বকাপ অবশ্যই এমন একটি বিষয়, যা এই বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পরীক্ষা ও আলোচনা করা হবে।’

তিনি বলেন, বিশ্বকাপ শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য। তার মতে, আরও বেশি দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দিলে ফুটবলের মান বিশ্বজুড়ে আরও উন্নত হবে।

‘প্রত্যেক দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত। ছোট দেশগুলোকে সুযোগ না দিলে উন্নতির প্রেরণাও কমে যাবে,’ বলেন ইনফান্তিনো।

৬৪ দলের বিশ্বকাপের ধারণাটি প্রথম উত্থাপন করেন উরুগুয়ের ফুটবল কর্মকর্তা ইগনাসিও আলোনসো। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজও এটিকে নিজের “স্বপ্ন” বলে উল্লেখ করেন।

তাদের যুক্তি, ২০৩০ বিশ্বকাপ যেহেতু শতবর্ষের আসর, তাই আরও বেশি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে একে সত্যিকার অর্থেই বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত করা উচিত।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ছয়টি দেশে। উদ্বোধনী ম্যাচগুলো হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। বাকি ম্যাচগুলো আয়োজন করবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল।

৬৪ দল হলে দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি দেশই শুধু একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ গ্রুপ পর্ব আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে।

তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতাও রয়েছে। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন এটিকে ‘খারাপ ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এতে বিশ্বকাপের মান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি ইউরোপের বাছাইপর্বও গুরুত্ব হারাবে।

একই মত পোষণ করেছেন কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানি। তার ভাষায়, ‘এটি মোটেও ভালো ধারণা নয়।’

সমালোচকদের মতে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলে ফিফার ২১০ সদস্য দেশের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি দল মূল পর্বে খেলবে। এতে অনেক অঞ্চলের বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্ব কমে যেতে পারে।

ইতোমধ্যে ৪৮ দলের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি দেশের মধ্যে ছয়টি সরাসরি এবং একটি প্লে-অফের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।

এদিকে ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনকে ‘শতভাগ সফল’ বলে দাবি করেছেন ইনফান্তিনো।

যদিও ঘানার সাবেক কোচ কার্লোস কুইরোজসহ কয়েকজন কোচ মনে করেন, দলসংখ্যা বাড়ানোর ফলে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার মর্যাদা কিছুটা কমে গেছে এবং প্রতিযোগিতাটি আগের তুলনায় কম এক্সক্লুসিভ হয়ে উঠেছে।

 

Popular

More like this
Related

হরমুজ প্রণালি থেকে আদায় করা টোল ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আরোপিত টোল থেকে...

ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম

ঢাকা জেলার নতুন ডিসি নিয়োগ পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব...

এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ আর মানুষের হাতে না থাকলে কী হতে পারে

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বই কিংবা সিনেমায় আমরা বহুবার এমন ঘটনা...

দেশ ঘোরার নেশা থেকে ‘আনসিন বাংলাদেশ’, আরও যা আছে এই ওয়েবসাইটে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন ট্রেন্ড, দেশের কতগুলো জেলায় আপনি...