গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুগপৎ হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সেদিনই পাল্টা হামলা শুরু করলেও ইরানকে প্রত্যক্ষ ভাবে সহায়তা করেনি তার প্রথাগত মিত্র রাশিয়া-চীন।
গত ২৭ দিনের সংঘাতে একমাত্র মিত্র হিসেবে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে পাশে পেয়েছে ইরান।
জবাবে লেবাননের ওপর চড়াও হয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এই সহিংসতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করেছে হিজবুল্লাহ।
আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানা গেছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাশেম জানান, নিরবচ্ছিন্ন হামলার মুখে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না।
২ মার্চ থেকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ।
ইসরায়েলি পাল্টা হামলায় বিপাকে পড়ে যায় লেবাননবাসী। নজিরবিহীন উদ্যোগে সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে দরকষাকষি করার উদ্যোগ নেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট।
তবে তার এই উদ্যোগে সাড়া দেননি নেতানিয়াহু।
অপরদিকে, গতকাল বুধবার হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাশেম নিশ্চিত করেন, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ সফল হতে দেবেন না তিনি।
তিনি বলেন, ‘হামলা বন্ধ না করে ইসরায়েলি সেনার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা আত্মসমর্পণের শামিল।’
ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা লেবাননের ভেতর একটি ‘নিরপেক্ষ অঞ্চল (বাফার জোন)’ তৈরি করেছে এবং তা সম্প্রসারণ করছে।
২০০০ সালের আগ পর্যন্ত প্রায় দুই দশক লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ইসরায়েলের দখলে ছিল।
দেশটি তাদের উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের একটি অবস্থান থেকে লিটানি নদী পর্যন্ত ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে ইসরায়েল। এ অংশটিকেই তারা নিরপেক্ষ এলাকা দাবি করছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে একটি ‘প্রকৃত নিরাপত্তা জোন’ তৈরি করেছে এবং এখন সেটার সম্প্রসারণ করে লেবাননের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যাতে স্থল পথে ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা না আসে, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় নিরাপত্তা জোন তৈরি করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে শেয়ার করা ভিডিওতে ইসরায়েলি নেতাকে এই দাবি করতে দেখা যায়।
অপরদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার তথ্য জানিয়ে ১০-১২টি বিবৃতি দিয়েছে হিজবুল্লাহ।
পাশাপাশি, আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলের কেন্দ্রে একাধিক সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর তথ্য জানায় ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, দেশটির কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসা ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্রের সবগুলোই মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ‘গাজা মডেল’ অনুসরণ করার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছেন। যার ফলে, গণহারে বাস্তুচ্যুতির আশংকা দেখা দিয়েছে।
হিজবুল্লাহর ভাষ্য, বুধবার অন্তত ৮০ বার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে তারা। চলমান যুদ্ধে এটাই সবচেয়ে বেশিবার হামলার ঘটনা।
নয়টি সীমান্তবর্তী শহরে ইসরায়েলি সেনার ওপর হামলার দাবি করে তারা।
ইসরায়েলি হামলায় গত তিন সপ্তাহে লেবাননের এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার।
লেবানন কর্তৃপক্ষ জানায়, অন্তত দশ লাখ মানুষ হামলার কারণে বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।