সিনিয়রদের বিশেষ সুবিধা ক্ষতি করেছে নিলামের স্বচ্ছতাকে

Date:

বারো বছর — এই লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কোনো নিলাম হয়নি। তবে অপ্রত্যাশিত চমক, নজিরবিহীন অনুরোধ এবং সামগ্রিকভাবে হতাশাজনক বিদেশি খেলোয়াড়দের তালিকা, সব মিলিয়ে রোববারের নিলাম ফেরাটা অনেক দিক থেকেই বিপিএলের নড়বড়ে সুনামেরই প্রতিফলন।

মোহাম্মদ নাঈমকে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় দলে নেওয়া এবং বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসের ৭০ লাখ টাকায় রংপুর রাইডার্সে যোগ দেওয়াটা যেমন নিলামে স্বাভাবিক অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল, সত্যিকারের আলো কাড়ে নিলামের মাঝপথে নিয়ম বদলের আবদার। আর সঙ্গে সঙ্গে সেই আবদার মেনে নেওয়া, যাতে প্রথম ডাকেই অবিক্রীত থাকা সিনিয়র খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিচের ক্যাটাগরিতে নামিয়ে না দেওয়া হয়।

বিধি অনুযায়ী, কোনো ক্যাটাগরির খেলোয়াড় প্রথম ডাকে বিক্রি না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচের ক্যাটাগরিতে নেমে যায়, ফলে তাদের বেস প্রাইসও কমে যায়।

ক্যাটাগরি ‘বি’-তে ৩৫ লাখ টাকার বেস প্রাইসে থাকা মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে প্রথম ডাকে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার আগ্রহ দেখায়নি। স্থানীয় খেলোয়াড়দের রাউন্ড শেষ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তাদের ক্যাটাগরি ‘সি’-তে নেমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রংপুর রাইডার্সের একজন কর্মকর্তা, যিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকও, এক নজিরবিহীন অনুরোধ জানান, দুজনকেই ‘বি’ ক্যাটাগরিতেই রাখতে। বিস্ময়কর হলেও বিপিএল সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু তা তৎক্ষণাৎ অনুমোদন করেন।

ওই কর্মকর্তা যুক্তি দেন, বিষয়টি দুজন সিনিয়রের সম্মান “রক্ষা” করার জন্য। কিন্তু তিনি যেন বোঝেনইনি, এতে নিলামের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সদস্যসচিবও বিরূপ প্রভাবগুলি বিবেচনা করার প্রয়োজন মনে করেননি। সৌভাগ্যই বলতে হয়, অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি, যারা নিজ নিজ চাহিদামতো খেলোয়াড় আগেই নিয়ে নিয়েছিল এবং সচেতনভাবেই দুই সাবেক অধিনায়ককে বাদ দিয়েছিল, তারা এ ব্যবস্থায় সম্মতি দেয়, স্বতঃস্ফূর্তভাবে হোক বা সৌজন্যবশত।

শেষ পর্যন্ত দুজনই মাত্র একটি করে বিড পান। বেশিরভাগ দলের পরিকল্পনায় হয়তো তাদের জায়গা ছিল না, তবে এটাও সম্ভব যে কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের স্বাভাবিক নিয়মে নিচের ক্যাটাগরিতে নামলে কম দামে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। মাহমুদউল্লাহর একমাত্র দরদাতা ছিল রংপুর রাইডার্স, আর মুশফিককে শেষ পর্যন্ত দলে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

পুরো ঘটনাটি যেমন নজিরবিহীন, তেমনই উদ্বেগজনক। ন্যায্য নিলামের মূলনীতি হলো, সকল খেলোয়াড়কে সমানভাবে বিবেচনা করা, তাদের খ্যাতি, সিনিয়রিটি বা অতীত অবদান যাই হোক না কেন। নইলে মোহাম্মদ রুবেলের মতো খেলোয়াড়, যাকে ক্যাটাগরি নিচে নামার পর রাজশাহী কম দামে নিয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হতে পারেন।

যদি রংপুরের ওই কর্মকর্তা সত্যিই দুজনকে সম্মান জানাতে চাইতেন, তবে নিলামের আগেই সরাসরি তাদের দলে ভেড়াতে পারতেন, অথবা অন্তত প্রথমবার ক্যাটাগরি ‘বি’ তে ডাক পড়ার সময়ই বিড করতে পারতেন। পরিবর্তে যেভাবে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলো, তা অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করেছে এবং নিলামে এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর শ্রেণিবিভাগ সৃষ্টি করেছে।

Popular

More like this
Related

রংপুরে হারিয়ে যাচ্ছে ‘শান্তির নিবাস’ মাটির ঘর

রংপুরের বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে...

ট্রাম্পের ‘গাজা শান্তি পর্ষদে’ যোগ দিতে সম্মত নেতানিয়াহু

গাজায় টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি শান্তি পর্ষদ গঠন...

ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই এড়াতে সরে দাঁড়ালেন ইরানি অ্যাথলেট

ইসরায়েলের এক প্রতিযোগীর মুখোমুখি হতে না চাওয়ায় কেনিয়ার একটি...

বান্দরবানে বর্জ্যে দূষিত সাঙ্গু নদী, সংকটে প্রাণ-প্রকৃতি  

চার দশক পেরিয়ে গেলেও বান্দরবান শহরে কোনো স্থায়ী বর্জ্য...