সালিশে ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করেন বিএনপির অভিযুক্ত নেতা আলী দেওয়ান

Date:

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, প্রথমবার ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর বিচার চাইলে সালিশে স্থানীয় বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী দেওয়ান উল্টো ওই কিশোরীকেই ঘটনার জন্য দায়ী করেছিলেন।

নিহতের বাবা-মায়ের অভিযোগ, ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সালিশে তাদের মেয়েকেই দোষারোপ করা হয় এবং আগামী ১ মার্চের মধ্যে পুরো পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কৃত ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান।

আজ শনিবার সকালে ভুক্তভোগীর বাবা আশরাফ আলী ও মা ফাহিমা বেগম সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, গত বুধবার রাতে তাদের মেয়েকে অপহরণের পর আবারও ধর্ষণ করা হয়। এরপর হত্যা করা হয়।

ফাহিমা বেগম জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে একটি কারখানার পেছনে তার মেয়েকে চারজন মিলে ধর্ষণ করা হয়। মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান এই ঘটনার বিচার করার আশ্বাস দিয়ে সালিশ ডাকেন। তার সঙ্গে সালিশে অংশ নেন এবায়দুল্লাহ। 

ফাহিমা বেগমের অভিযোগ, সালিশে ধর্ষকদের বিচার না করে উল্টো আমার মেয়ের ওপর দোষ চাপানো হয়। ৮ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে ধর্ষকদের পক্ষে রায় দিয়ে আমাদের ১ মার্চের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাদের নিয়মিত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি জানান।

ভুক্তভোগীর বাবা আশরাফ আলী বলেন, সালিশের রায় না মেনে তারা থানায় যেতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা ও তার সহযোগীরা পথরোধ করে। পুলিশে গেলে পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তারা কয়েকদিন চুপ থাকলেও অভিযুক্তরা তাদের মেয়েকে উত্যক্ত করা বন্ধ করেনি।

তিনি আরও জানান, গত বুধবার রাতে তাদের মেয়েকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যাওয়ার পথে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে কোতোয়ালীরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর তাকে আবারও ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের মা। পুলিশ এখন পর্যন্ত ৭ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনপ্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা (২৮), আহম্মদ আলী ওরফে আহম্মদ দেওয়ান (৬৫), এবাদুল্লাহ (৩৮), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) ও মো. আইয়ুব (৩০)।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, প্রধান অভিযুক্ত নুরাকে শুক্রবার রাতে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, পরিবারটিকে হুমকির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিবারটিকে পুলিশি নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, সালিশের বিচারক আহম্মদ আলী দেওয়ান ও তার সহযোগী এবাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবাদুল্লাহ সালিশে অংশ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেছিল।

 

 

 

Popular

More like this
Related

ইসরায়েল লক্ষ্য করে আরেক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

ইসরায়েল লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান—এমন...

ইরানের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যের যেসব মার্কিন ঘাঁটি

ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় আবারও...

ইতিহাস সাক্ষী, আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করিনি: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাব ‘দৃঢ়ভাবে’ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরানের...

বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমন অবস্থায়...