শুধু ইয়ামাল নন, ফ্রান্সের ভাবনায় স্পেনের গোটা দল

Date:

বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে ভালো করেই জানেন, তাদের লড়াইটা কেবল লামিন ইয়ামাল নামের এক তরুণ বিস্ময়কে থামানোর নয়। ডালাস স্টেডিয়ামের এই দ্বৈরথ আসলে ইউরোপের দুই পরাশক্তির শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।

অপ্টা সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের দৌড়ে এই দুটি দলই সবচেয়ে এগিয়ে। যেখানে ৩৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে ফ্রান্স রয়েছে তালিকার শীর্ষে, আর ২৩.৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় ফেবারিট হিসেবে তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে স্পেন।

চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার লড়াইয়ে থাকা ইয়ামাল চলতি আসরে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল করেছেন। তবে গোলসংখ্যা যা-ই বলুক না কেন, মাঠে তার উপস্থিতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তার প্রমাণ টুর্নামেন্টে তৈরি করা ৫টি সুযোগ। আর ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে করা সেই চোখধাঁধানো গোলের স্মৃতি তো ফরাসিদের মনে দগদগে থাকারই কথা।

তবুও ফরাসি শিবিরের ভাবনায় কেবল ইয়ামাল বন্দি নন। ডিফেন্ডার কোনাতে মনে করিয়ে দিয়েছেন, স্প্যানিশ দলে প্রতিভার কমতি নেই এবং বিপদ আসতে পারে যেকোনো প্রান্ত থেকেই।

ম্যাচ পূর্ববর্তী ভাবনায় কোনাতে বলেন, ‘আমরা শুধু লামিনকে থামানোর কথা ভাবছি না। স্পেন দলগতভাবে অসাধারণ এবং তাদের প্রচুর ব্যক্তিগত প্রতিভা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য কেবল একজন খেলোয়াড়ের ওপর মনোযোগ আটকে রাখা নয়, কারণ ওদের পুরো দলটাই ক্ষতি করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’

স্পেনের খেলার ধরন নিয়ে কোনাতে আরও যোগ করেন, ‘ওদের আক্রমণভাগ সত্যিই দুর্দান্ত। তবে আমার মনে হয় মিডফিল্ডার থেকে শুরু করে ডিফেন্ডার—সবাই মিলেই এই যৌথ প্রচেষ্টা সফল করে তুলছে। ওরা যা করছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। আর হ্যাঁ, ওদের আক্রমণভাগ এতটাই নিখুঁত যে মানুষ হয়তো ওদের কাউন্টার-প্রেসিং (বল হারিয়ে দ্রুত তা পুনরুদ্ধারের কৌশল) নিয়ে খুব একটা আলোচনা করার সুযোগই পায় না।’

পরিসংখ্যানও বলছে স্পেনের এই পথচলা কতটা রাজকীয়। বড় টুর্নামেন্টগুলোর নকআউট পর্বে নিজেদের শেষ ৭টি ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতেছে তারা। এবার জিতলে প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে টানা ৮টি নকআউট ম্যাচ জয়ের এক অনন্য রেকর্ড গড়বে লা রোহারা। এর আগে ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে ইতালি এবং ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে স্পেন নিজেরাই টানা ৭টি নকআউট ম্যাচ জিতেছিল।

টাইব্রেকারের হিসাব বাদ দিলে, ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে খেলা ২৭টি ম্যাচের মধ্যে স্পেন হেরেছে মাত্র একটিতে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে জাপানের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারার পর থেকে টানা ১৪টি ম্যাচে তারা অপরাজিত।

সেই হারের পর থেকে ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে এই ১৪ ম্যাচে স্প্যানিশ রক্ষণ দুর্গে ফাটল ধরানো গেছে মাত্র ৫ বার। কোনো ম্যাচেই তারা একের বেশি গোল হজম করেনি, যার মধ্যে ৯টি ম্যাচেই জাল অক্ষত রেখেছে স্পেনের ডিফেন্ডাররা।

বোঝাই যাচ্ছে, একদিকে যেমন ফ্রান্সের আগুনে আক্রমণ, অন্যদিকে স্পেনের অভেদ্য প্রাচীর আর দলগত রসায়ন। ফাইনালের টিকিট কাটতে কোনাতেদের যে শুধু ইয়ামালকে পাহারা দিলেই চলবে না, তা তো তাদের রণপরিকল্পনাতেই স্পষ্ট।

 

Popular

More like this
Related

৩০ দিনের মধ্যে আবারও নৈশভোজ আয়োজনে সম্মতি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্ট ডিনারে গুলির ঘটনার পর বাতিল...

সততা, সাহসিকতা, সাংবাদিকতার ৩৫ বছর

‘সততা, সাহসিকতা, সাংবাদিকতা’র ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে ঢাকায় দ্য ডেইলি...

দৌড়ঝাঁপ-নাচে দক্ষ চীনের রোবট, এখন শুধু ‘বুদ্ধিমান’ হওয়া বাকি

দীর্ঘদিন ধরে দৌড়ানো, নাচা ও ডিগবাজি দেওয়ার মতো সক্ষমতাসম্পন্ন...

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমছে, আবারও দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো

ঢাকা ও দেশের কয়েকটি জেলার ব্যবসায়ীরা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে...