লোডশেডিং ঢাকায় ১-২ ঘণ্টা, গ্রামে ১৪ ঘণ্টা: রুমিন ফারহানা

Date:

গ্যাস বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সংসদে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এর অন্তর্গত আশুগঞ্জ একটি শিল্প নগরী। এখানে আছে সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, চালকল, মিল, ফ্যাক্টরি, বন্দর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যায় সারা বাংলাদেশে, কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ গ্যাস পায় না।’

এ তিনি সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর গ্যাসের চাহিদা পূরণ করার পর অন্য এলাকায় সরবরাহ করার দাবি জানান।

আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিনে সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ড বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র। ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত এই গ্যাস ক্ষেত্র বর্তমানে ২২টি কূপের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৯৯১ সালে সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়। শুরুর দিকে গ্রাহক ছিল ১ হাজার, বর্তমানে কাগজে-কলমে ৫ হাজার, কিন্তু অবৈধ সংযোগ যদি আমরা এর সঙ্গে যুক্ত করি, তাহলে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার।’

প্রত্যেক গ্রাহকই গ্যাসের চরম সংকটে আছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সরাইল সদরে দেড় কিলোমিটার এলাকায় ৬ ইঞ্চি এবং ১ কিলোমিটার এলাকায় ৪ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ দিয়ে গ্যাস সঞ্চালন লাইন টানা হয়েছে, এরপর পাড়ায় পাড়ায় ২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ বসানো হয়েছে। সমস্যা হলো সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টার পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না—চুলা মিটমিট করে জ্বলে। এরপর মন চাইলে গ্যাস আসে ১ ঘণ্টার জন্য, তারপর আবার রাত পর্যন্ত গ্যাসের কোনো খবর নাই। দেশে গ্যাসের সংকট আছে। তার ওপর শীতকালে গ্যাসের চাহিদা আরও বাড়ে। অন্যদিকে আছে অবৈধ সংযোগ।’

বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘লোকবলের অভাবসহ সংকটে তাদের পক্ষে পুরোপুরি তদারক করা সম্ভব হচ্ছে না।’

‘২০১৬ সালে বাসা-বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া বন্ধ হলেও অসাধু কর্মকর্তাদের সাহায্যে এখনো বেশ কিছু বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ নিয়ে রেখেছে। সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে এবং যাদের বাড়িতে বৈধ লাইন আছে, তারাও গ্যাস পাচ্ছে না। শেষে মাটির চুলা, এলপিজি সিলিন্ডার আর বৈদ্যুতিক চুলা ভরসা। আমাদের জীবনমানের এখন এমন উন্নয়ন হয়েছে, গ্রাম বা মফস্বল এলাকাতেও এখন মানুষ ফ্ল্যাট-পাকা বাড়িতে থাকে। উঠান এখন অনেকটাই বিলাসিতা। সুতরাং মাটির চুলায় রান্না করা বাস্তবতা বিবর্জিত,’ যোগ করেন তিনি।

এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘এলপিজি ১ হাজার ৯৪০ টাকা সিলিন্ডার বলে বটে, তবে ২ হাজার ২০০ টাকার নিচে কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। আমরা যদি বিদ্যুতের চুলার কথা বলি, তাহলে বলতে হয়, ঢাকা শহরে ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকে, কিন্তু গ্রামে সেটা ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়। সুতরাং গ্যাস ছাড়া আমাদের সত্যিকার অর্থে চুলা জ্বালানোর মতো জ্বালানি নেই।’

তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যেহেতু দেশের অন্যান্য সব এলাকায় যায়, আমার দাবি থাকবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে, তারপর এটি অন্য এলাকায় যাবে।’

তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রে ৩১ নম্বর কূপের খনন কার্যক্রম চলছে। আশা করা হচ্ছে, সেখান থেকে প্রতিদিন ৯ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। এই কূপের গ্যাস প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে দেওয়ার দাবি জানান রুমিন ফারহানা।

Popular

More like this
Related

প্রথমবারের মতো সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান

মহাকাশে প্রথমবারের মতো এমন এক নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা,...

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টিকা বা ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির...

৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বিমা দাবি পরিশোধ

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) উদ্যোগে দুই ধাপে...

ইত্যাদি এবার নদীঘেরা উপকূলীয় জনপদ লক্ষ্মীপুরে

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নতুন পর্বের জন্য এবার বেছে...