রিয়াদ-আবুধাবি সম্পর্ক: মরুর দেশে ‘শীতল যুদ্ধ’

Date:

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একটি দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়েছেন প্রতিবেশী ও দীর্ঘদিনের মিত্র আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাহনুন বিন জায়েদের কাছে। সম্প্রতি পাঠানো সেই চিঠিতে রিয়াদের ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানায়—এই ক্ষোভ মূলত সৌদি আরবের প্রতিবেশী যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান ও ইয়েমেনের রণাঙ্গণে এক সময়ের মিত্র আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চিঠির বিষয়টি জানানোর পর তা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। তবে রিয়াদ ও আবুধাবি এখনো পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে যা জানা গেছে তা হলো: সৌদি আরব চায় সুদানে গৃহযুদ্ধ এখনই বন্ধ হোক। দেশটি আরও চায় সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) আমিরাত সমর্থন দেওয়া বন্ধ করুক।

এ ছাড়াও, সৌদি আরব চায়—আমিরাত যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক।

এই দুই দেশে শান্তি ফেরাতে আমিরাতের ‘মধ্যস্থতা’র প্রয়োজন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছর ডিসেম্বরের শুরুতে আমিরাত-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) সশস্ত্র যোদ্ধারা বহুধা বিভক্ত ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল দখল করে নেয়। এরপর এক সময়ের স্বাধীন দক্ষিণ ইয়েমেনকে এসটিসি আবারও আলাদা রাষ্ট্র করতে গণভোটের ঘোষণা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় ঐক্যবদ্ধ ইয়েমেনের পক্ষে থাকা সৌদি আরব।

তখন থেকে সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। পরে সেই দ্বন্দ্ব প্রকট হওয়ার সংবাদ আসে যখন গত ডিসেম্বরের শেষে আমিরাত ও এসটিসির প্রভাব কমাতে সৌদি সেনারা দক্ষিণ ইয়েমেনের বন্দর মুকাল্লায় বোমা ফেলে।

মধ্যপ্রাচ্যে ধনী দেশগুলোর রাজতান্ত্রিক শাসকদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের। গত শতাব্দীতে স্বাধীনতা পাওয়া আরব দেশগুলো রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হলেও ‘খোলা চোখে’ শাসকরা নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখেছেন। কিন্তু, নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় সেই ‘ঐতিহ্য’ যেন ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।

ঐতিহাসিক আরব উপদ্বীপে আয়তন ও সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে বড় সৌদি আরবকে ‘নেতা’ মেনে চলতো বা চলতে বাধ্য হতো অন্যান্য ছোট ছোট ধনী আরব দেশগুলো। এখন এক সময়ের ঘনিষ্ঠ রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে আঞ্চলিক স্বার্থে বৈরিতা দেখা দিয়েছে।

এই বৈরিতাকে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শীতল যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।

গত ৬ জানুয়ারি সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ‘শীতল যুদ্ধ’। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পর্দার আড়ালে সবসময়ই প্রতিযোগিতা ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এমনকি, প্রকাশ্য সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে মুকাল্লা বন্দরে সৌদি সেনাদের বোমা ফেলার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এই হামলাকে বিদেশের মাটিতে দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই হামলার পর আমিরাতের অবশিষ্ট সেনাদের ইয়েমেন থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় আবুধাবি।

সেই ‘শীতল যুদ্ধ’ যে আরও কয়েক ধাপ এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন মিডল ইস্ট আইয়ের প্রধান সম্পাদক ডেভিড হার্স্ট। গত ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মিডল ইস্ট আইয়ে এক মতামত প্রতিবেদনে সৌদি আরব কিভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে আরব আমিরাত ‘বড় ভাই’ সৌদি আরবের ‘ডান হাত’ হয়ে কাজ করতো। ইয়েমেন, মিশর, লিবিয়া, তিউনিসিয়া ও সিরিয়ায় স্বৈরশাসকবিরোধী গণআন্দোলন ‘আরব বসন্ত’কে ব্যর্থ করতে করতে সৌদি আরবকে সহায়তা করেছে আমিরাত।

তবে তাদের সেই বন্ধুত্বে ‘ফাটল’ ধরেছে বলেও মন্তব্য করেন এই সাংবাদিক। তার মতে, এই বন্ধুত্ব সৌদি আরবের জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তার মতে, সৌদিদের চোখে আবুধাবি এখন আর রিয়াদের ঘনিষ্ঠ নয়। আয়তন, অর্থনীতি ও জনসংখ্যার দিক থেকে এই দুই দেশের তুলনা হয় না। তবুও দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আমিরাত ঈর্ষান্বিত বলেও জনমনে ধারণা তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের আয়তন প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার। দেশটির তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ ছোট আরব আমিরাতের আয়তন প্রায় ৮৩ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার। যেখানে সৌদি আরবের জনসংখ্যা সাড়ে ৩ কোটি, সেখানে আমিরাতের জনসংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখের মতো।

দুই দেশের দুই নেতা

মধ্যপ্রাচ্যে ১ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে সৌদি আরব সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। অন্যদিকে, আমিরাতের জিডিপি ৫৫২ বিলিয়ন ডলার। তুরস্ক ও ইসরায়েলকে যোগ করলে আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে চতুর্থ বড় অর্থনীতির দেশ।

গত ২৯ জানুয়ারি ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—সৌদি ও আমিরাতের সংঘাত ইয়েমেন ও আফ্রিকার ‘শিং’ এ রাজনৈতিক পরিবেশ বদলে দিচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে ইউরোপের করণীয় কী তা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়—ইউরোপকে সৌদি-আমিরাতের সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে। খুব সতর্কভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে, যাতে এই আঞ্চলিক সংঘাতে ইউরোপ জড়িয়ে না পড়ে।

রিয়াদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যারাব নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে সৌদি-আমিরাতি ‘শত্রুতা’র পেছনের ‘প্রকৃত’ ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যমটি জানায়—রিয়াদ ও আবুধাবির বৈরিতার শেকড় জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে আবদ্ধ।

ইতিহাস বলছে—আরব বসন্তের প্রভাবে ইয়েমেনে গণ-আন্দোলন শুরু হলে ২০১২ সালে দেশটির দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রপতি আলি আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর সেখানে আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা নেয় ইরানপন্থি হিসেবে পরিচিত হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি সীমান্তবর্তী ইয়েমেনকে ইরানের প্রভাবমুক্ত রাখতে ২০১৫ সালে সৌদি-নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট গড়ে উঠে। সেই জোটের প্রভাবশালী সদস্য ছিল আরব আমিরাত।

 

বিশ্লেষকদের ভাষ্য: সৌদি আরব যখন চায় ইয়েমেনে বিবদমান সব দলকে নিয়ে সরকার গঠন করতে, তখন আমিরাত দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে। এটি সৌদি স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। শুরু হয় রিয়াদ-আবুধাবি দ্বন্দ্ব।

এরপর যোগ হয়—যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান ও সোমালিয়ায় একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইরত গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আমিরাতের সমর্থন।

সংবাদ প্রতিবেদনগুলোয় বলা হচ্ছে—সৌদি কর্মকর্তা এইসব দেশে আমিরাতের কার্যক্রমকে রিয়াদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি মনে করছেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সুদানের যুদ্ধরত আরএসএফ বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সুদানের এই বিদ্রোহী বাহিনীর পাশাপাশি সোমালিয়ার স্বাধীনতাকামী রাজ্য সোমালিল্যান্ডের প্রতি আমিরাতের সমর্থন ও সহযোগিতা আঞ্চলিক প্রভাবশালী সৌদি আরবকে আরও বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলে।

গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করেন।

সেদিন বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়—চুক্তিতে বলা হয়েছে যে সৌদি আরব অথবা পাকিস্তানের ওপর কোনো আগ্রাসন উভয়ের ওপর আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে দুই পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ, দুই দেশের স্বার্থ এবং নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা বিষয়েও আলোচনা হয়।

গত ১৫ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উপকরণবিষয়ক মন্ত্রী রাজা হায়াত হাররাজের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়—প্রায় এক বছর আলোচনার পর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে।

গত বছরের পাক-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এই ৩-জাতি চুক্তির কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত ১৬ জানুয়ারি লন্ডনভিত্তিক মিডল ইস্ট মনিটর জানায়—ইসরায়েলি আধিপত্যের ভীতিকর পরিবেশের মধ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা ভাবছে।

অনেকে এই জোটকে সম্ভাব্য ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

গত কয়েক বছর গাজায় গণহত্যা চালানোর পর ইসরায়েল প্রতিবেশী লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরান ও কাতারে হামলা চালায়। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য: এসব হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং পুরো অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে ইসরায়েল এসব হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’-এর দাবি তুলছেন। বাইবেলের বিবরণ অনুযায়ী এই দেশটির বিস্তৃতি হবে মিশরের নীল নদ থেকে ইরাকের দজলা-ফোরাত পর্যন্ত।

নয়াদিল্লি এআই সম্মেলন উপলক্ষে দুবাইয়ের বিশ্বখ্যাত বুর্জ খলিফায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখ ও ইসরায়েলের আইনসভা নেসেটে মোদির ভাষণের আয়োজন—এই সাম্প্রতিক ঘটনা দুটি দিল্লি, আবুধাবি ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠতার সবশেষ উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে।

এমন বাস্তবতায় তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্য ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের কথা স্মরণ করা যেতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়—ভারত পশ্চিম এশিয়ার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছে পুবে। ভারত, আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ইতিহাস প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়।

গত ২০ জানুয়ারি মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে জানানো হয়—ভারত ও আমিরাত পরমাণু সহযোগিতা গভীর করতে এক ‘অভাবনীয়’ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রাজি হয়েছে।

এতে বলা হয়, নয়াদিল্লির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ ‘আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস’-এর নিন্দা করেছেন। এটি মূলত কাশ্মীরকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের দিকে ইঙ্গিত দেয়।

 

গত ২১ জানুয়ারি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর এক প্রতিবেদনের শিরোনামে প্রশ্ন রাখা হয়—‘পাক-সৌদি-তুর্কি সখ্যতাকে ঠেকাতেই কি ভারত-আমিরাত-ইসরায়েল জোট?’

বলা হয়—দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক ও নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। নতুন বিশ্ব বাস্তবতায় পরমাণুশক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি করেছে খনিজসমৃদ্ধ সৌদি আরব।

এমন পরিস্থিতিতে তেল আবিব-দিল্লি-আবুধাবি ‘জোট’ অনেকটা জরুরি হয়ে উঠছে কি?—বলে প্রশ্ন রাখা হয় প্রতিবেদনটিতে।

অন্যদিকে, সৌদি শুরা কাউন্সিলের সদস্য আহমেদ আল-তুবাইজরি গ্রিক পুরাণের ‘ট্রয়ের ঘোড়া’র উদাহরণ টেনে বলেন, আরব আমিরাত আরব দুনিয়ায় ইসরায়েলের ‘ট্রয়ের ঘোড়া’ হিসেবে কাজ করছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি মিডল ইস্ট আইয়ের এক পডকাস্টে সৌদি শুরা কাউন্সিলের সদস্য আহমেদ আল-তুবাইজরি এমন মন্তব্য করেন।

তার মতে, আঞ্চলিক রাজনীতিতে আমিরাতের হস্তক্ষেপ ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্যপূরণে সহযোগিতা করছে। আল-তুবাইজরি বলেন, ‘আরব আমিরাতের ট্রোজান হর্সের ভূমিকা ইসরায়েলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা করছে।’

২০২০ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় অন্যান্য আরব দেশের মতো আমিরাত ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের ভাষ্য: স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র না প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়বে না।

 

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আল-তুবাইজরি বলেন, এটি একটি ‘বিপজ্জনক রাষ্ট্র’। দেশটি ‘মানবতা, ইহুদিবাদ, ইহুদি, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্বের জন্য হুমকি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার এমন বক্তব্যে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীতে বলা হয়—সৌদি আরব ও আরব আমিরাতকে দূর থেকে একই রকম মনে হতে পারে। একইভাবে দেশ দুইটি খনিজসমৃদ্ধ। দেশ দুইটি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের সদস্য। দেশ দুইটি একে অপরের সহযোগী।

দেশ দুইটির নেতাদের ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শত্রুতা ক্রমশ গভীর হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই শত্রুতা অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে মরুর দেশে এমন ‘শীতল যুদ্ধ’ কতদূর গড়ায় তা ভবিষ্যৎ-ই বলবে।

Popular

More like this
Related

টেন্ডার নিয়ে জামায়াতের ২ নেতাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার জমা দেওয়া নিয়ে...

অভিষেক ও হার্দিকদের তাণ্ডবে ভারতের রেকর্ড পুঁজি

বাঁচা-মরার লড়াইয়ে একাদশে দুই বদল নিয়ে নামল ভারত, বাড়াল...

মাথাপিছু আয় ১ শতাংশ বেড়ে ২৭৬৯ ডলার

দেশে বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার...

কক্সবাজারে গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণ: ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় এলপিজি গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণে আহতদের...