আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রিজার্ভ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়ার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ব্যারেলপ্রতি তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১০১ দশমিক ৫৯ ডলারে।
আজ বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উঠে আসে এ তথ্য।
এতে বলা হয়, আইইএ মজুদ থেকে প্রতিদিন ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পরও বাজারে আতঙ্ক কাটেনি। বরং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
এএফপি জানায়, বৃহস্পতিবার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৫৯ ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও জাহাজে হামলা, বিভিন্ন দেশের তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার আইইএ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রিজার্ভ ছাড়ের ঘোষণা দিলেও তা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ কমাতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে দুইটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ ৬টি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
একইসঙ্গে তেল উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরাক। একই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে কুয়েত ও সৌদি আরব।
আইইএ’র মতে, বিশ্ব জ্বালানি বাজার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো মিলিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১ কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে, যা বৈশ্বিক তেল চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশের সমান।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সরবরাহ ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।