ক্লান্ত শরীর, ধীর ছন্দ, তবুও ‘ম্যাকারোনি’ ম্যাচে জেতার অভ্যাসে ভাটা পড়েনি বার্সেলোনা। কঠিন লড়াইয়ের পরও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়ে নিজেদের নিখুঁত রেকর্ড ধরে রেখেছে কাতালান জায়ান্টরা। রোনালদ আরাহোর গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় তাদের।
রায়ো ভায়াকানোর বিপক্ষে এই ম্যাচটা মোটেও সহজ ছিল না। ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে খেললেও শুরু থেকেই চাপের মধ্যে ছিল বার্সেলোনা। ম্যাচের একেবারে শুরুতেই বিপদের আভাস পায় দলটি, যখন পেপ চাভিরিয়ার আক্রমণ থেকে হেড করেন কার্লোস মার্তিন, কিন্তু অসাধারণ সেভ করে দলকে বাঁচান গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়া।
ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে বার্সা। ক্লান্ত শরীর নিয়েও প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় দলটি। সেই আধিপত্যের ফল আসে কর্নার থেকে। ডান দিক থেকে জোয়াও ক্যানসেলোর নিখুঁত ক্রসে হেড করে গোল করেন রোনালদ আরাহো। ম্যাচের একমাত্র গোলটাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
তবে গোলের পর থেকেই যেন বদলে যায় চিত্র। ক্লান্ত বার্সেলোনা ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে, আর সুযোগ খুঁজতে থাকে রায়ো। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা, বিশেষ করে আলভারো গার্সিয়া ও উনাই লোপেজের শট থেকে সমতা ফেরানোর কাছাকাছি পৌঁছে যায় দলটি। কিন্তু প্রতিবারই প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান গার্সিয়া, যিনি অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন।
মাঝমাঠেও ছিল ভোগান্তি। ক্লান্ত পেদ্রি নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না, আর কড়া মার্কিংয়ের মধ্যে পড়েছিলেন লামিন ইয়ামাল। রাফিনিয়া কয়েকবার সুযোগ পেলেও ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ হন, একবার তো বল লাগে ক্রসবারেও।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় নামিয়েও খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। বরং শেষ দিকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রায়ো। প্যাসা এস্পিনোর একটি নিশ্চিত সুযোগ মিস না হলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত।