ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার আজ ২৫তম দিব। ‘হামলা’ দিয়ে শুরু হলেও দ্রুতই ‘যুদ্ধে’ রূপান্তরিত হয় এই সামরিক সংঘাত।
ওই দুই মিত্র দেশের বিমানহামলার জবাবে ইসরায়েল ও এ অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান।
অনেকে ইরানের জবাবকে ‘নির্বিচার’ আখ্যা দিলেও তেহরান মূলত সেসব দেশেই হামলা চালাচ্ছে, যারা মার্কিন সেনাদের আশ্রয় দিয়েছে কিংবা ওয়াশিংটনকে তাদের দেশে ঘাঁটি নির্মাণ করতে দিয়েছে।
গত কয়েকদিনের বড় খবর হলো ‘ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের’ আলোচনা নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা।
ইরানের মিত্র ও বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত চীন। এই পরিস্থিতিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। দিয়েছেন এক গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ।
এ ফোনকলের বিষয়টি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেছেন, ‘যুদ্ধের চেয়ে আলোচনা ভালো’।
বেইজিং এখনো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত। তবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ইরানের হামলায় সায় দেয়নি।
ফোন কলে ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, তিনি আশা করেন ‘সব পক্ষ শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো সুযোগ লুফে নেবে এবং অবিলম্বে এই আলোচনা শুরু হবে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, ‘সংঘাতে জড়িত’ দেশগুলো ছাড়া অন্য সব দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে যেতে পারবে।
তিনি ওয়াংকে আরও জানান, ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, এই সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ ইরান।’
চীনকে মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান আরাঘচি।
ইরানের অনুরোধে এই ফোন কলের আয়োজন করা হয় বলে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তেহরান শিগগির সেই দাবি অস্বীকার করে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলেও এখন তা মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসবে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়েছে। যার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, মোট বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়।
সোমবার ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন ইরানের এক ‘শীর্ষ নেতার’ সঙ্গে কথা বলেছে। এর আগে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিলেও ওই অজ্ঞাত নেতার সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার কারণ দেখিয়ে ওই হামলা পাঁচ দিনের জন্য পিছিয়ে দেন রিপাবলিকান নেতা।
তবে তেহরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ দাবি করেন, ‘কোনো আলোচনা’ হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প এসব কথা বলে তেল ও আর্থিক বাজারে কারসাজি করার চেষ্টা করছেন।
এ মাসে বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা ছিল ট্রাম্পের। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সফর পিছিয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি চীন ও অন্যান্য দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে সহায়তার আহ্বান জানান।