যাদের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা

Date:

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পূর্বঘোষিত হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর চতুর্থ সপ্তাহে এসে আজ সোমবার ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আলোচনা ‘ফলপ্রসূ’ হওয়ায় তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় তিনটি দেশ মধ্যস্থতা করেছে।

যদিও, ইরানি গণমাধ্যমগুলো বলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বা কারও মাধ্যমে কোনো আলোচনা হয়নি।

আজ সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে।

এ আলোচনার লক্ষ্য তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুতার চূড়ান্ত অবসান। এরপর ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।

ট্রাম্পের এমন ঘোষণার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম কমতে শুরু করে এবং চাঙ্গা হতে থাকে শেয়ারবাজার।

কিন্তু, আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের গণমাধ্যমগুলো। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগ হয়নি।

মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো সংলাপ চলছে না।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির বরাতে মেহের নিউজ জানায়, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর একটি অপকৌশল’ এবং তার সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ক্ষেপণ।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফারস’ নাম উল্লেখ না করে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বা কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও ইরানের যোগাযোগ হয়নি।

সূত্রের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ইরান পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ট্রাম্প মূলত ‘পিছু হটেছেন’।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান সরকারের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এখনো সরাসরি আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওসের’ বরাতে রয়টার্স জানায়, তিনটি দেশ এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করছে। দেশগুলোর প্রতিনিধিরা হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন।

দেশগুলো হলো—তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের অবসান এবং জমতে থাকা সব সমস্যার সমাধান।

মেহের নিউজ অবশ্য বলছে, তেহরান উত্তেজনা প্রশমনে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা চায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই আলোচনায় অংশ নিক। কারণ ইরান মনে করছে ওয়াশিংটনই এই যুদ্ধের সূত্রপাত করেছে।

হোয়াইট হাউস অবশ্য আলোচনার স্থান বা অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

Popular

More like this
Related

মিডিয়া কমিটি থেকে বাদ পড়ার পর বিসিবি পরিচালক আমজাদের পদত্যাগ

​মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ...

‘৫ বছর ক্ষমতায় থেকে শোধ নিলাম, এরপর অন্যরা—এই চক্র বন্ধ করতে হবে’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ‘মামলা বাণিজ্য’ ও...

বন্ধু দেশগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আলোচনার জন্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পেয়েছে বলে...

ট্রাম্পের হামলা বন্ধের নির্দেশের পর ইরান-রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা...