গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (আইএমসিএইচ) বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের সাবেক দুই শিক্ষক ও এক ছাত্রের বিরুদ্ধে ৪৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ এবং বেনামী ইমেইলে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত ও অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে, কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সাবেক প্রধান (চলতি দায়িত্ব) ইউ. কে. ফাতেমা খান মজলিস দায়িত্ব পালনকালে বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিলেন। গত ২০ অক্টোবর ২০২৫-এ তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর অডিট পরিচালনার মাধ্যমে ল্যাবরেটরির ‘Maglumi 2000 Plus’ মেশিনের হিসেবে গরমিল পাওয়া যায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, তার মেয়াদে ল্যাবরেটরিতে হিসাব বহির্ভূত ৫৪৬৫টি টেস্ট করানো হয়েছে, যার মোট মূল্য ৪৫,৩৮,৬১৫ টাকা। এই বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেনের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি বেনামী ইমেইল (kingkhanbank1@gmail.com) থেকে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ঠিকানায় ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য পাঠিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগের তীর সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ কাজল আক্তার এবং শিক্ষার্থী দামিক শাওকাত মালিক-এর দিকে। ডক্টর কাজলের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি ছাত্রের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া গেছে । তিনি তার বাসায় ছাত্রছাত্রীদের কে নিয়ে অনৈতিক কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দামিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এক বছর বহিষ্কৃত ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি এবং ডাঃ কাজল আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক পোস্ট ও বিকৃত ছবি ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এসব কর্মকাণ্ডের দায়ে গত ৯ আগস্ট ২০২৫-এ ডাঃ কাজল আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন ও এইচআর) মোঃ ইমরুল কায়েস টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি বলেন, কলেজ ও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। আমরা অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন বা অর্থ আত্মসাৎকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
বর্তমানে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গাজীপুরে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে উম্মেল খায়ের ফাতেমা মজলিশ (৪৬) নামে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের এক সাবেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪ এ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সিনিয়র ম্যানেজার হিসাব বিভাগ এ এফ এম ফরিদ মামলাটি দাখিল করেন।