আগেই টেবিলের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তবে তাদের টপকে যাওয়ার সুযোগ ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালসের সামনে। নকআউট পর্বের চার দল নিশ্চিত হয়ে গেলেও তাই দুই দলের এই লড়াই ছিল মর্যাদা ও অবস্থান নির্ধারণের দিক থেকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। সেই চাপের ম্যাচে দারুণ দৃঢ়তায় জয় তুলে নিয়ে শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন রাখল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৩ উইকেটে হারায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে মাত্র ১২৫ রানেই গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম। জবাবে ৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী।
তবে রান তাড়ায় শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না রাজশাহীর। দলীয় ৩১ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও আকবর আলী। পঞ্চম উইকেটে ৬৬ বলে ৮৪ রানের দারুণ জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন এই দুই ব্যাটার।
আকবর আলী আউট হওয়ার পর কিছুটা আশা ফিরে পায় চট্টগ্রাম। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫ রান যোগ করতে তিনটি উইকেট হারায় রাজশাহী। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সামলে জাহান্দাদ খানকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের কাজটা সেরে ফেলেন মুশফিক।
অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করা মুশফিকুর রহিম করেন ৪২ বলে ৪৬ রান। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা। অন্যদিকে আকবর আলী ৪০ বলে ১টি চার ও ৪টি ছক্কায় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন।
চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ১৩ রানের বিনিময়ে নেন ৩টি উইকেট। শেখ মেহেদী হাসান শিকার করেন ২টি উইকেট।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলীয় ৭৪ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে একশ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। তবে অষ্টম উইকেটে আবু হায়দার রনির সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন আসিফ আলী।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন আসিফ আলী। ২৪ বলের এই ইনিংসে তিনি হাঁকান ৪টি ছক্কা। রাজশাহীর হয়ে তানজিম হাসান সাকিব ১৭ রানের খরচায় ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া জাহান্দাদ খান ও রায়ান বার্ল নেন ২টি করে উইকেট।