এমন অদ্ভুত রানআউট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরল। নিজের দায়ে রানআউট হয়ে পাকিস্তানের সালমান আলি আঘা রেগেমেগে হেলমেট ছুঁড়ে মারেন, গালিগালাজ করে তর্কে ঝড়ান বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে। এসব আচরণকে ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে’ ঘটে যাওয়া ঘটনা বলা সালমান জানান মিরাজের জায়গায় তিনি থাকলে ভিন্নরকম চিন্তা করতেন।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩৯তম ওভারে আঘার রান-আউটকে কেন্দ্র করেই খেলার মূল আলোচনার সূত্রপাত হয়।
মোহাম্মদ রিজওয়ানের একটি স্ট্রেইট ড্রাইভের সময় বোলার মিরাজ বলটি ধরার চেষ্টা করার সময় সালমান বাধার মতো ক্রিজের বাইরে সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বোঝা যাচ্ছিলো মিরাজ বল ঠেকাতে না পারলে রানের জন্য ছুটবেন তিনি। মিরাজ তার সঙ্গে সংঘর্ষ স্বত্ত্বেও বলটি আটকে দেন। পরে সালমানের পায়ের কাছে বল এনে স্টাম্পে ছুঁড়ে মারেন, সালমানও এইসময় লাইভ থাকা বল ধরতে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানের এই ব্যাটার ক্রিজের অনেক বাইরে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার।
সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে হেলমেট ছুটে মেরে ক্ষোভ জানান তিনি, চিৎকার করে গালিগালাজ করতে দেখা যায় তাকে। এসময় লিটন দাসের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।
এই ঘটনা নিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আঘা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এরপর কী হয়েছে তা আমি আপনাদের বলতে পারি। আমি নিশ্চিত সবাই তা দেখেছে, তবে এটি ছিল স্রেফ মুহূর্তের উত্তেজনা। আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি কী করতাম, তবে আমি বলব আমি এটি ভিন্নভাবে সামলাতাম। তবে পরে যা কিছু ঘটেছে তা ছিল স্রেফ উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে।’
রান-আউটকে খেলার স্পিরিটের বাইরে বলে ব্যাখ্যা দিয়ে সালমান বলেন, ‘দেখুন, এটি নিয়মের মধ্যেই আছে। আমি এমন একজন যে সব সময় নিয়ম মেনে চলতে চাই, কিন্তু যখন খেলোয়াড়ি মনোভাবের কথা আসে, তখন আমার মনে হয় পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সেটিকে আরও উপরে রাখা উচিত। নিয়মের মধ্যে থেকে তিনি যা করেছেন, তা যদি তিনি ঠিক মনে করেন তবে সেটি তার পছন্দ। কিন্তু আপনি যদি আমার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান, আমি ভিন্নভাবে কাজ করতাম; আমি খেলোয়াড়ি মনোভাবের পক্ষেই থাকতাম।’
লিটনের সঙ্গেও তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। আঘা জানান, সেখানে কী কথা হয়েছে তা তার মনে নেই, ‘আমি কী বলছিলাম তা মনে করতে পারছি না, আর তিনি কী বলছিলেন তাও মনে নেই। আমি নিশ্চিত আমি ভালো কিছু বলিনি, আর তিনিও নিশ্চিতভাবে ভালো কিছু বলেননি। তবে এটি ছিল স্রেফ মুহূর্তের উত্তেজনা। আমরা ঠিক আছি।’
তবে মিরাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক ঠিক হয়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন, ‘আমি এখনও [মিরাজের সঙ্গে] কথা বলিনি, তবে আমরা কথা বলব। দুশ্চিন্তা করবেন না, আমরা ঠিক আছি‘’
বাংলাদেশের পাকিস্তানি স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ এই ঘটনায় কারো ভুলই খুঁজে পাচ্ছেন না, ‘ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারিনি কী হয়েছে। মিরাজ ভেবেছিলেন ব্যাটার ক্রিজের বাইরে আছেন এবং তিনি বল থামানোর চেষ্টা করছিলেন। মনে হচ্ছে বলটি সরাসরি মিরাজের পায়ের কাছে গিয়েছিল এবং একই সময়ে ব্যাটার বলটি তুলে মিরাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।’
‘আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, মিরাজের জন্য বলটি তুলে রান-আউটের চেষ্টা করা ছিল স্রেফ একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, কারণ ব্যাটার ক্রিজের বাইরে ছিলেন। আমি বিশ্বাস করি না কোনো পক্ষই ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করেছে; ব্যাটার সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন আর মিরাজ খেলার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং রান-আউটের একটি সুযোগ দেখেছিলেন।’
মিরপুরে রানআউট বিতর্কের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। সিরিজে এখন ১-১ সমতা।